#jihad

20 posts loaded — scroll for more

Text
wisdomfish
wisdomfish

Muhammad: From Peace to Conquest

Dive deep into the dramatic transformation of Muhammad’s leadership and the shift from peaceful beginnings to an era of conquest and expansion. They explore the pivotal battles, the changing attitudes toward other faiths, and the historical impact of these events on the world. The discussion covers the rise of militant strategies, the treatment of captives, and the far-reaching consequences for both the Islamic world and its neighbors. With historical references and candid analysis, this episode sheds light on the roots of conflict and the legacy that shaped centuries of history.

Text
religion-is-a-mental-illness
religion-is-a-mental-illness

Raymond Ibrahim: Muslims are obligated to engage in holy war, which is not just war, it’s divine. Allah’s behind you. If you die, you reach the highest levels of paradise, so that’s why it’s holy.

And who’s the enemy? Everyone who’s not a Muslim, because we have to control their lands and we have to rule them. It’s the Muslims versus the rest of the world. The rest of the world is the other, the non-tribe, and just like it was in Arabia in the seventh century, the non-tribe member is someone who you can kill and enslave and do whatever you want to.

Okay, so that became the doctrine, and I was telling you earlier that Muslims are not permitted to migrate voluntarily and live under non-Islamic authority because you’re not supposed to be loyal to them. How can you give allegiance?

The caveat is, and this goes back, so we’ve dealt with the first one, the loyalty and enmity, and now we’re talking about jihad again, and the caveat is, okay, you can go to these European countries, and as long as you are in one way or the other involved in jihad on behalf of Islam. You are supposed to struggle and strive on behalf of Islam. Historically, that meant war because nobody was gonna just give in to you unless you force them.

So now, Muslim clerics have articulated a number of jihads, struggles, that are not militant or physical. They call them, and they give them different names. I’m just translating them in my head. There’s the jihad of the tongue, the jihad of the pen, the jihad of money, the baby jihad, and all of these, Muslims who, if you migrate to the West, are expected to be engaged in this because that is how you’re still a good Muslim.

If you’re just going to the West because you want a good life, well, okay, you’re a traitor; you’re not a real Muslim. But if you’re doing these, a jihad of the pen and the tongue means I’m somehow engaged in propaganda on behalf of Islam. I’m trying to demoralize Westerners. I’m doing what’s called dawah. I’m preaching Islam. I’m making Islam look good. Jihad of the money, of course, is I’m a rich Saudi and I just spend millions to help further whatever Islamist, jihadist causes.

Why do we live here in the United States? If you live here, you live here to serve the deen and to work. We have to be involved in the political fight, straight-up political process. You can’t shift this country without shifting it politically, supporting organizations like CAIR as they work on the legal side of things as well. Legal, and then five is media representation, how the public perception views the Muslim community.

Victory is the victory of conquest, is the victory of land. And we pledged to the Messenger of Allah that we would sacrifice our lives and our wealth for his sake, for the deen, and for the honor of Islam.

Text
ethiack
ethiack

NYC Terror Attack: Stop The Gaslighting

A vigil for Iran’s Ayatollah, a right-wing agitator with a goat, a failed terror attack by two teen Jihadists, and a mayor and media gaslighting about all of it: NYC gave us a weekend worthy of the Clown World record books. Let’s talk about it.

Text
heplev
heplev

Islam in tausend Worten

Diese knappe Zusammenfassung des Islam soll die integrale Natur des Islam als totalitäre Gesellschaftsordnung vermitteln, die auf einer Plünderungsökonomie basiert und von einer Religion überdeckt wird. Sie richtet sich an westliche Führungskräfte, politische Entscheidungsträger und militärische Planer, die derzeit möglicherweise unter Druck stehen, auf einen islamischen Ansturm zu reagieren, der…

Text
afro-delik
afro-delik
Text
gearjammerx
gearjammerx

Press Play.

Text
gnosticgnoob
gnosticgnoob

MEGADETH MELTED OUR FACES!!| Megadeth - Holy Wars…The Punishment Due | First Time Reaction

YouTube /watch?v=J4WQ159nQTc

Text
rami-r-rmlawi
rami-r-rmlawi

It is a jihad for victory or martyrdom. Martyr Commander Abu Ubaida

Text
eretzyisrael
eretzyisrael
Text
infosisraelnews
infosisraelnews

L’axe pro-iranien menace ouvertement d’une guerre totale : Kataib Hezbollah appelle à la mobilisation générale en soutien à Téhéran

Une nouvelle étape préoccupante vient d’être franchie dans l’escalade verbale et stratégique orchestrée par l’axe pro-iranien au Moyen-Orient. Le secrétaire général de Kataib Hezbollah en Irak, organisation armée directement alignée sur l’Iran, a publié ce soir un communiqué officiel appelant explicitement à la préparation d’une « guerre totale » en soutien à la République islamique d’Iran. Le…

Text
palmsandsunglasses
palmsandsunglasses
Text
thatpyromofo
thatpyromofo
Text
sunder-the-gold
sunder-the-gold
Text
ilyforallahswt
ilyforallahswt

ইনসাফ বা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা আল্লাহ্ আদেশ:সুবিচার করলে  ব্যক্তি সমাজের শান্তি, সাম্য এবং কল্যাণ নিশ্চিত হয়।

ইনসাফ, সুবিচার বা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা আল্লাহ্‌র আদেশঃ

ইনসাফ (ন্যায়বিচার) প্রতিষ্ঠা করা আল্লাহ্‌র সুস্পষ্ট আদেশ, যা পবিত্র কুরআন ও হাদিসে বারবার গুরুত্বারোপ করা হয়েছে; এটি মুমিনদের জন্য একটি অপরিহার্য দায়িত্ব, এমনকি নিজের বা প্রিয়জনের বিরুদ্ধে হলেও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর নির্দেশ রয়েছে, কারণ আল্লাহ সুবিচারকারীদের ভালোবাসেন এবং এটি তাকওয়ার নিকটবর্তী। 

কুরআন ও হাদিসের আলোকে:

  • কুরআনের নির্দেশ:
  • “তোমরা যখন মানুষের মাঝে বিচারকার্য পরিচালনা করবে তখন ন্যায়পরায়ণতার সঙ্গে বিচার করবে” (সূরা নিসা, আয়াত: ৫৮)।
  • “তুমি তাদের মধ্যে বিচারকার্য পরিচালনা করলে সুবিচার করবে। নিশ্চয় আল্লাহ সুবিচারকারীদের ভালোবাসেন” (সূরা মায়েদা, আয়াত: ৪২)।
  • “হে মু'মিনগণ! তোমরা আল্লাহর উদ্দেশে বিধানসমূহ পূর্ণ রূপে প্রতিষ্ঠাকারী ও ন্যায়ের সাথে সাক্ষ্যদানকারী হয়ে যাও… তোমরা ন্যায়বিচার কর, এটা আল্লাহ-ভীতির অধিকতর নিকটবর্তী” (সূরা মায়েদা, আয়াত: ৮)।
  • “আল্লাহ কমান্ড করেন ন্যায়বিচার ও সদ্ব্যবহারের” (সূরা নাহল, আয়াত: ৯০)।
  • হাদিসের নির্দেশনা:
  • রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “তোমরা অত্যাচার থেকে দূরে থাকো, কারণ অত্যাচার কেয়ামতের দিন অন্ধকারে পরিণত হবে” (সহীহ মুসলিম)।
  • আল্লাহ বলেছেন, “হে আমার বান্দাগণ, আমি নিজেকে ও তোমাদের ওপর জুলুম হারাম করেছি, সুতরাং তোমরা একে অপরের ওপর জুলুম করো না” (সহীহ মুসলিম)।
  • নবী (সাঃ) বলেছেন, “ন্যায়পরায়ণ শাসক (নেতা) সেই সাত শ্রেণীর মানুষের অন্তর্ভুক্ত, যাদের আল্লাহ তাঁর ছায়ার নিচে স্থান দেবেন সেদিন, যেদিন তাঁর ছায়া ছাড়া অন্য কোনো ছায়া থাকবে না” (সহীহ মুসলিম)। 

গুরুত্ব:

  • মৌলিক ইবাদত: ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ঈমানের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্যগুলির মধ্যে একটি।
  • সামাজিক ভারসাম্য: এটি সমাজে ভারসাম্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং জুলুম-অত্যাচার দূর করে।
  • আল্লাহর ভালোবাসা: আল্লাহ সুবিচারকারীদের ভালোবাসেন এবং তাদের প্রতিদান দেন। 

সুতরাং, ইনসাফ প্রতিষ্ঠা শুধু একটি ভালো কাজ নয়, বরং এটি আল্লাহর একটি অপরিহার্য ও বাধ্যতামূলক আদেশ, যা প্রত্যেক মুসলমানের জীবনে প্রতিফলিত হওয়া উচিত।

ইনসাফ কেন করতে হবে

ইনসাফ (ন্যায়বিচার) প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন কারণ এটি আল্লাহ্‌র আদেশ, যা ব্যক্তি ও সমাজের শান্তি, সাম্য এবং কল্যাণ নিশ্চিত করে; এটি মানুষের মর্যাদা রক্ষা করে, সততা ও নৈতিকতা বৃদ্ধি করে এবং পক্ষপাতিত্ব ও জুলুম দূর করে, যা একটি সুস্থ ও উন্নত সমাজ গঠনের অপরিহার্য ভিত্তি। ইনসাফ একদিকে যেমন আল্লাহর হক আদায়, তেমনি বান্দার হক আদায় ও সঠিক বিচার নিশ্চিত করারও উপায়। 

ইনসাফ করার কারণসমূহ:

  • আল্লাহর নির্দেশ: আল্লাহ্‌ তা'আলা পবিত্র কুরআনে ন্যায়পরায়ণতা ও সুবিচারের আদেশ দিয়েছেন এবং বলেছেন যে তিনি ইনসাফকারীদের ভালোবাসেন (সুরা নিসা: ৫৮, সুরা নাহল: ৯০)।
  • সামাজিক শান্তি ও সাম্য: ইনসাফ ছাড়া সমাজে শান্তি, নিরাপত্তা এবং মানবিকতা ধ্বংস হয়। সুবিচার ব্যক্তি, পরিবার ও রাষ্ট্রের সর্বস্তরে সাম্য প্রতিষ্ঠা করে।
  • ব্যক্তিত্ব গঠন ও নৈতিকতা: শিশুদের মধ্যে ইনসাফের গুরুত্ব শেখানো হলে তারা সৎ ও ন্যায়পরায়ণ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে। এটি অন্যের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে শেখায়।
  • পক্ষপাত ও জুলুম প্রতিরোধ: ইনসাফ শত্রু-মিত্র, আত্মীয়-অনাত্মীয় সবার প্রতি সমান আচরণ নিশ্চিত করে এবং পক্ষপাত, স্বজনপ্রীতি ও জুলুমকে প্রতিরোধ করে।
  • মানবিক মর্যাদা রক্ষা: সুবিচার মানুষের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করে এবং তাদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় করে।
  • ধর্মীয় ও নৈতিক বাধ্যবাধকতা: এটি শুধু সামাজিক নয়, ধর্মীয় দায়িত্বও বটে। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য এবং তাকওয়া অর্জনের জন্য ইনসাফ করা অপরিহার্য। 

সংক্ষেপে, ইনসাফ এমন একটি মৌলিক নীতি যা মানব সমাজকে অন্যায় ও অরাজকতা থেকে রক্ষা করে একটি উন্নত, শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে সাহায্য করে। 

ইনসাফের প্রয়োজনীয়তা

ইনসাফ তথা ন্যায়বিচার এমন এক অপরিহার্য ও প্রশংসিত গুণ, যা ছাড়া মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক জীবনে শান্তি, শৃঙ্খলা, উন্নতি, সমৃদ্ধি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা সম্ভব নয়। মানবজাতির সার্বিক উন্নতি, সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তার জন্য ‘ইনসাফ’ না থাকার কারণে মানবজীবনের সর্বস্তরে অন্যায়-অবিচার সংক্রামক ব্যাধির ন্যায় ছড়ায়। মানুষের স্বভাবে স্বার্থপরতা, হিংসা-বিদ্বেষ, যেকোনো মূল্যে নিজ স্বার্থ হাসিলের প্রবণতা জন্ম নেয়। এমন মনোবৃত্তির কারণে মানুষ লোভ-লালসায় পতিত হয়, আর লোভ-লালসা থেকে মনে হিংসা-বিদ্বেষ চরম পর্যায়ে পৌঁছে শত্রুতার জন্ম দেয়। মানুষ যখন ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক জীবন পর্যন্ত সর্বস্তরে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবে, তখন কেউ কারও প্রতি অন্যায়-অবিচার করবে না, কারও অধিকার খর্ব হবে না; শান্তি-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিঘিœত হবে না। তখন মানুষের মধ্যে পরস্পরে ভালোবাসা, সৌন্দর্য ও সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় থাকবে। এ কারণে আল্লাহ মানুষকে ন্যায়বিচারের নির্দেশ দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা, সদাচরণ এবং আত্মীয়-স্বজনকে দান করার আদেশ দেন এবং তিনি অশ্লীলতা, অসংগত কাজ এবং অবাধ্যতা করতে বারণ করেন।’ সুরা নাহল : ৯০

ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে সাক্ষীদের সঠিক এবং সত্য সাক্ষী দেওয়ার বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে। ইরশাদ হচ্ছে, ‘যখন তোমরা কথা বলো (বিচার কিংবা সাক্ষী হিসেবে), তখন সুবিচার করো, যদিও সে আত্মীয়ও হয়।’ সুরা আনআম : ১৫৩

অনুরূপ কোনো ধনী প্রভাবশালী ব্যক্তির ব্যাপারে কোনো প্রকার পক্ষপাতিত্ব কিংবা অবিচার না করার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘হে ইমানদাররা, তোমরা ন্যায়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকো; আল্লাহর ওয়াস্তে ন্যায়সংগত সাক্ষ্যদান করো, তাতে তোমাদের নিজের বা পিতা-মাতার অথবা নিকটবর্তী আত্মীয়-স্বজনের যদি ক্ষতি হয় তবুও। কেউ যদি ধনী কিংবা দরিদ্র হয়, তবে আল্লাহ তাদের শুভাকাক্সক্ষী তোমাদের চাইতে বেশি। অতএব, তোমরা বিচার করতে গিয়ে রিপুর কামনা-বাসনার অনুসরণ করো না। আর যদি তোমরা ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে কথা বলো কিংবা পাশ কাটিয়ে যাও, তবে আল্লাহ তোমাদের যাবতীয় কাজ কর্ম সম্পর্কে অবগত।’ সুরা আন নিসা : ১৩৫

বিচারকাজে কোনো প্রকার উপঢৌকন কিংবা উৎকোচ দিয়ে বিচারকের রায় নিজের কিংবা নিজ পক্ষের কারও অনুকূলে আনার চেষ্টার বিরুদ্ধে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তোমরা নিজেদের মধ্যে একে অন্যের ধন অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না এবং মানুষের ধন-সম্পদের কিয়দংশ জেনেশুনে অন্যায়ভাবে গ্রাস করার উদ্দেশে বিচারকদের ঘুষ দিয়ো না।’ সুরা আল বাকারা : ১৮৮

ইসলামের নির্দেশ হলো, দুই পক্ষের মধ্যে সম্পাদিত লেনদেন সংক্রান্ত কোনো চুক্তি লেখার ক্ষেত্রেও লেখককে ন্যায় অবলম্বন করতে হবে। ন্যায়বিচারের তাকিদ দিয়ে আল্লাহ বলেন, ‘হে ইমানদাররা! তোমরা যখন নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য পরস্পর ঋণ দেওয়া-নেওয়া করো, তখন তা লিখে নাও।সুরা বাকারা : ২৮২

জীবনের কেউ যদি একাধিক বিয়ে করে, এখানেও ন্যায়বিচারে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একাধিক বিয়ে করলে তাদের মধ্যে সুবিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অপরাগতার আশঙ্কা থাকলে শরিয়ত একাধিক বিয়ের অনুমতি দেয়নি। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর যদি এরূপ আশঙ্কা করো যে, তাদের মধ্যে ন্যায়সংগত আচরণ বজায় রাখতে পারবে না তবে, একটিই বিয়ে করো।’ সুরা নিসা : ৩

জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইনসাফ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সমাজ ও রাষ্ট্রে ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত না হলে অনেক ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।। রাষ্ট্রীয়ভাবে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা না হলে, হিংসা বাড়ে, অনৈতিকতা ও বিশৃঙ্খলা ছড়ায়, জনগণ সরকারের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলে। শুরু হয় ভয়ের রাজত্ব। যা বর্তমান বিশ্বে লক্ষণীয়। সামাজিক ক্ষেত্রে ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত না হলে, সমাজে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য বাড়ে, সামাজিক ন্যায়বিচার ভূলুণ্ঠিত হয়, ভিক্ষাবৃত্তি ও চুরি ডাকাতি বৃদ্ধি পায়। সুদখোরদের আবির্ভাব ঘটে, যারা সামান্য কিছু টাকাও সুদ ছাড়া ধার দিতে চায় না।

পারিবারিক ক্ষেত্রে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা না হলে, পরিবারের বড়দের প্রতি ছোটদের মন থেকে সম্মান কমতে থাকে। বিবাহ বিচ্ছেদ বাড়ে, সন্তান বিগড়ে যায়। শিক্ষাক্ষেত্রে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা না হলে, অপেক্ষাকৃত গরিব শিক্ষার্থীরা শিক্ষার সঠিক আলো থেকে বঞ্চিত হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর থেকে শিক্ষার্থীদের আস্থা কমতে থাকে। বিদ্যালয় কমিটি সুযোগ সন্ধানীর ভূমিকা পালন করে। অর্থের বিনিময়ে শিক্ষার মূল্যায়ন হয়, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

ইনসাফ কেন করতে হবে

ইনসাফ বা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা আল্লাহ্ আদেশ: সুবিচার করলে ব্যক্তি সমাজের শান্তি, সাম্য এবং কল্যাণ নিশ্চিত হয়। 

Text
myreligionislam
myreligionislam

ইনসাফ বা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা আল্লাহ্ আদেশ:সুবিচার করলে  ব্যক্তি সমাজের শান্তি, সাম্য এবং কল্যাণ নিশ্চিত হয়।

ইনসাফ, সুবিচার বা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা আল্লাহ্‌র আদেশঃ

ইনসাফ (ন্যায়বিচার) প্রতিষ্ঠা করা আল্লাহ্‌র সুস্পষ্ট আদেশ, যা পবিত্র কুরআন ও হাদিসে বারবার গুরুত্বারোপ করা হয়েছে; এটি মুমিনদের জন্য একটি অপরিহার্য দায়িত্ব, এমনকি নিজের বা প্রিয়জনের বিরুদ্ধে হলেও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর নির্দেশ রয়েছে, কারণ আল্লাহ সুবিচারকারীদের ভালোবাসেন এবং এটি তাকওয়ার নিকটবর্তী। 

কুরআন ও হাদিসের আলোকে:

  • কুরআনের নির্দেশ:
  • “তোমরা যখন মানুষের মাঝে বিচারকার্য পরিচালনা করবে তখন ন্যায়পরায়ণতার সঙ্গে বিচার করবে” (সূরা নিসা, আয়াত: ৫৮)।
  • “তুমি তাদের মধ্যে বিচারকার্য পরিচালনা করলে সুবিচার করবে। নিশ্চয় আল্লাহ সুবিচারকারীদের ভালোবাসেন” (সূরা মায়েদা, আয়াত: ৪২)।
  • “হে মু'মিনগণ! তোমরা আল্লাহর উদ্দেশে বিধানসমূহ পূর্ণ রূপে প্রতিষ্ঠাকারী ও ন্যায়ের সাথে সাক্ষ্যদানকারী হয়ে যাও… তোমরা ন্যায়বিচার কর, এটা আল্লাহ-ভীতির অধিকতর নিকটবর্তী” (সূরা মায়েদা, আয়াত: ৮)।
  • “আল্লাহ কমান্ড করেন ন্যায়বিচার ও সদ্ব্যবহারের” (সূরা নাহল, আয়াত: ৯০)।
  • হাদিসের নির্দেশনা:
  • রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “তোমরা অত্যাচার থেকে দূরে থাকো, কারণ অত্যাচার কেয়ামতের দিন অন্ধকারে পরিণত হবে” (সহীহ মুসলিম)।
  • আল্লাহ বলেছেন, “হে আমার বান্দাগণ, আমি নিজেকে ও তোমাদের ওপর জুলুম হারাম করেছি, সুতরাং তোমরা একে অপরের ওপর জুলুম করো না” (সহীহ মুসলিম)।
  • নবী (সাঃ) বলেছেন, “ন্যায়পরায়ণ শাসক (নেতা) সেই সাত শ্রেণীর মানুষের অন্তর্ভুক্ত, যাদের আল্লাহ তাঁর ছায়ার নিচে স্থান দেবেন সেদিন, যেদিন তাঁর ছায়া ছাড়া অন্য কোনো ছায়া থাকবে না” (সহীহ মুসলিম)। 

গুরুত্ব:

  • মৌলিক ইবাদত: ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ঈমানের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্যগুলির মধ্যে একটি।
  • সামাজিক ভারসাম্য: এটি সমাজে ভারসাম্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং জুলুম-অত্যাচার দূর করে।
  • আল্লাহর ভালোবাসা: আল্লাহ সুবিচারকারীদের ভালোবাসেন এবং তাদের প্রতিদান দেন। 

সুতরাং, ইনসাফ প্রতিষ্ঠা শুধু একটি ভালো কাজ নয়, বরং এটি আল্লাহর একটি অপরিহার্য ও বাধ্যতামূলক আদেশ, যা প্রত্যেক মুসলমানের জীবনে প্রতিফলিত হওয়া উচিত।

ইনসাফ কেন করতে হবে

ইনসাফ (ন্যায়বিচার) প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন কারণ এটি আল্লাহ্‌র আদেশ, যা ব্যক্তি ও সমাজের শান্তি, সাম্য এবং কল্যাণ নিশ্চিত করে; এটি মানুষের মর্যাদা রক্ষা করে, সততা ও নৈতিকতা বৃদ্ধি করে এবং পক্ষপাতিত্ব ও জুলুম দূর করে, যা একটি সুস্থ ও উন্নত সমাজ গঠনের অপরিহার্য ভিত্তি। ইনসাফ একদিকে যেমন আল্লাহর হক আদায়, তেমনি বান্দার হক আদায় ও সঠিক বিচার নিশ্চিত করারও উপায়। 

ইনসাফ করার কারণসমূহ:

  • আল্লাহর নির্দেশ: আল্লাহ্‌ তা'আলা পবিত্র কুরআনে ন্যায়পরায়ণতা ও সুবিচারের আদেশ দিয়েছেন এবং বলেছেন যে তিনি ইনসাফকারীদের ভালোবাসেন (সুরা নিসা: ৫৮, সুরা নাহল: ৯০)।
  • সামাজিক শান্তি ও সাম্য: ইনসাফ ছাড়া সমাজে শান্তি, নিরাপত্তা এবং মানবিকতা ধ্বংস হয়। সুবিচার ব্যক্তি, পরিবার ও রাষ্ট্রের সর্বস্তরে সাম্য প্রতিষ্ঠা করে।
  • ব্যক্তিত্ব গঠন ও নৈতিকতা: শিশুদের মধ্যে ইনসাফের গুরুত্ব শেখানো হলে তারা সৎ ও ন্যায়পরায়ণ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে। এটি অন্যের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে শেখায়।
  • পক্ষপাত ও জুলুম প্রতিরোধ: ইনসাফ শত্রু-মিত্র, আত্মীয়-অনাত্মীয় সবার প্রতি সমান আচরণ নিশ্চিত করে এবং পক্ষপাত, স্বজনপ্রীতি ও জুলুমকে প্রতিরোধ করে।
  • মানবিক মর্যাদা রক্ষা: সুবিচার মানুষের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করে এবং তাদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় করে।
  • ধর্মীয় ও নৈতিক বাধ্যবাধকতা: এটি শুধু সামাজিক নয়, ধর্মীয় দায়িত্বও বটে। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য এবং তাকওয়া অর্জনের জন্য ইনসাফ করা অপরিহার্য। 

সংক্ষেপে, ইনসাফ এমন একটি মৌলিক নীতি যা মানব সমাজকে অন্যায় ও অরাজকতা থেকে রক্ষা করে একটি উন্নত, শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে সাহায্য করে। 

ইনসাফের প্রয়োজনীয়তা

ইনসাফ তথা ন্যায়বিচার এমন এক অপরিহার্য ও প্রশংসিত গুণ, যা ছাড়া মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক জীবনে শান্তি, শৃঙ্খলা, উন্নতি, সমৃদ্ধি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা সম্ভব নয়। মানবজাতির সার্বিক উন্নতি, সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তার জন্য ‘ইনসাফ’ না থাকার কারণে মানবজীবনের সর্বস্তরে অন্যায়-অবিচার সংক্রামক ব্যাধির ন্যায় ছড়ায়। মানুষের স্বভাবে স্বার্থপরতা, হিংসা-বিদ্বেষ, যেকোনো মূল্যে নিজ স্বার্থ হাসিলের প্রবণতা জন্ম নেয়। এমন মনোবৃত্তির কারণে মানুষ লোভ-লালসায় পতিত হয়, আর লোভ-লালসা থেকে মনে হিংসা-বিদ্বেষ চরম পর্যায়ে পৌঁছে শত্রুতার জন্ম দেয়। মানুষ যখন ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক জীবন পর্যন্ত সর্বস্তরে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবে, তখন কেউ কারও প্রতি অন্যায়-অবিচার করবে না, কারও অধিকার খর্ব হবে না; শান্তি-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিঘিœত হবে না। তখন মানুষের মধ্যে পরস্পরে ভালোবাসা, সৌন্দর্য ও সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় থাকবে। এ কারণে আল্লাহ মানুষকে ন্যায়বিচারের নির্দেশ দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা, সদাচরণ এবং আত্মীয়-স্বজনকে দান করার আদেশ দেন এবং তিনি অশ্লীলতা, অসংগত কাজ এবং অবাধ্যতা করতে বারণ করেন।’ সুরা নাহল : ৯০

ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে সাক্ষীদের সঠিক এবং সত্য সাক্ষী দেওয়ার বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে। ইরশাদ হচ্ছে, ‘যখন তোমরা কথা বলো (বিচার কিংবা সাক্ষী হিসেবে), তখন সুবিচার করো, যদিও সে আত্মীয়ও হয়।’ সুরা আনআম : ১৫৩

অনুরূপ কোনো ধনী প্রভাবশালী ব্যক্তির ব্যাপারে কোনো প্রকার পক্ষপাতিত্ব কিংবা অবিচার না করার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘হে ইমানদাররা, তোমরা ন্যায়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকো; আল্লাহর ওয়াস্তে ন্যায়সংগত সাক্ষ্যদান করো, তাতে তোমাদের নিজের বা পিতা-মাতার অথবা নিকটবর্তী আত্মীয়-স্বজনের যদি ক্ষতি হয় তবুও। কেউ যদি ধনী কিংবা দরিদ্র হয়, তবে আল্লাহ তাদের শুভাকাক্সক্ষী তোমাদের চাইতে বেশি। অতএব, তোমরা বিচার করতে গিয়ে রিপুর কামনা-বাসনার অনুসরণ করো না। আর যদি তোমরা ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে কথা বলো কিংবা পাশ কাটিয়ে যাও, তবে আল্লাহ তোমাদের যাবতীয় কাজ কর্ম সম্পর্কে অবগত।’ সুরা আন নিসা : ১৩৫

বিচারকাজে কোনো প্রকার উপঢৌকন কিংবা উৎকোচ দিয়ে বিচারকের রায় নিজের কিংবা নিজ পক্ষের কারও অনুকূলে আনার চেষ্টার বিরুদ্ধে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তোমরা নিজেদের মধ্যে একে অন্যের ধন অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না এবং মানুষের ধন-সম্পদের কিয়দংশ জেনেশুনে অন্যায়ভাবে গ্রাস করার উদ্দেশে বিচারকদের ঘুষ দিয়ো না।’ সুরা আল বাকারা : ১৮৮

ইসলামের নির্দেশ হলো, দুই পক্ষের মধ্যে সম্পাদিত লেনদেন সংক্রান্ত কোনো চুক্তি লেখার ক্ষেত্রেও লেখককে ন্যায় অবলম্বন করতে হবে। ন্যায়বিচারের তাকিদ দিয়ে আল্লাহ বলেন, ‘হে ইমানদাররা! তোমরা যখন নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য পরস্পর ঋণ দেওয়া-নেওয়া করো, তখন তা লিখে নাও।সুরা বাকারা : ২৮২

জীবনের কেউ যদি একাধিক বিয়ে করে, এখানেও ন্যায়বিচারে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একাধিক বিয়ে করলে তাদের মধ্যে সুবিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অপরাগতার আশঙ্কা থাকলে শরিয়ত একাধিক বিয়ের অনুমতি দেয়নি। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর যদি এরূপ আশঙ্কা করো যে, তাদের মধ্যে ন্যায়সংগত আচরণ বজায় রাখতে পারবে না তবে, একটিই বিয়ে করো।’ সুরা নিসা : ৩

জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইনসাফ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সমাজ ও রাষ্ট্রে ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত না হলে অনেক ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।। রাষ্ট্রীয়ভাবে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা না হলে, হিংসা বাড়ে, অনৈতিকতা ও বিশৃঙ্খলা ছড়ায়, জনগণ সরকারের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলে। শুরু হয় ভয়ের রাজত্ব। যা বর্তমান বিশ্বে লক্ষণীয়। সামাজিক ক্ষেত্রে ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত না হলে, সমাজে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য বাড়ে, সামাজিক ন্যায়বিচার ভূলুণ্ঠিত হয়, ভিক্ষাবৃত্তি ও চুরি ডাকাতি বৃদ্ধি পায়। সুদখোরদের আবির্ভাব ঘটে, যারা সামান্য কিছু টাকাও সুদ ছাড়া ধার দিতে চায় না।

পারিবারিক ক্ষেত্রে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা না হলে, পরিবারের বড়দের প্রতি ছোটদের মন থেকে সম্মান কমতে থাকে। বিবাহ বিচ্ছেদ বাড়ে, সন্তান বিগড়ে যায়। শিক্ষাক্ষেত্রে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা না হলে, অপেক্ষাকৃত গরিব শিক্ষার্থীরা শিক্ষার সঠিক আলো থেকে বঞ্চিত হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর থেকে শিক্ষার্থীদের আস্থা কমতে থাকে। বিদ্যালয় কমিটি সুযোগ সন্ধানীর ভূমিকা পালন করে। অর্থের বিনিময়ে শিক্ষার মূল্যায়ন হয়, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

ইনসাফ কেন করতে হবে

ইনসাফ বা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা আল্লাহ্ আদেশ: সুবিচার করলে ব্যক্তি সমাজের শান্তি, সাম্য এবং কল্যাণ নিশ্চিত হয়। 

Text
mylordisallah
mylordisallah

ইনসাফ বা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা আল্লাহ্ আদেশ:সুবিচার করলে  ব্যক্তি সমাজের শান্তি, সাম্য এবং কল্যাণ নিশ্চিত হয়।

ইনসাফ, সুবিচার বা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা আল্লাহ্‌র আদেশঃ

ইনসাফ (ন্যায়বিচার) প্রতিষ্ঠা করা আল্লাহ্‌র সুস্পষ্ট আদেশ, যা পবিত্র কুরআন ও হাদিসে বারবার গুরুত্বারোপ করা হয়েছে; এটি মুমিনদের জন্য একটি অপরিহার্য দায়িত্ব, এমনকি নিজের বা প্রিয়জনের বিরুদ্ধে হলেও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর নির্দেশ রয়েছে, কারণ আল্লাহ সুবিচারকারীদের ভালোবাসেন এবং এটি তাকওয়ার নিকটবর্তী। 

কুরআন ও হাদিসের আলোকে:

  • কুরআনের নির্দেশ:
  • “তোমরা যখন মানুষের মাঝে বিচারকার্য পরিচালনা করবে তখন ন্যায়পরায়ণতার সঙ্গে বিচার করবে” (সূরা নিসা, আয়াত: ৫৮)।
  • “তুমি তাদের মধ্যে বিচারকার্য পরিচালনা করলে সুবিচার করবে। নিশ্চয় আল্লাহ সুবিচারকারীদের ভালোবাসেন” (সূরা মায়েদা, আয়াত: ৪২)।
  • “হে মু'মিনগণ! তোমরা আল্লাহর উদ্দেশে বিধানসমূহ পূর্ণ রূপে প্রতিষ্ঠাকারী ও ন্যায়ের সাথে সাক্ষ্যদানকারী হয়ে যাও… তোমরা ন্যায়বিচার কর, এটা আল্লাহ-ভীতির অধিকতর নিকটবর্তী” (সূরা মায়েদা, আয়াত: ৮)।
  • “আল্লাহ কমান্ড করেন ন্যায়বিচার ও সদ্ব্যবহারের” (সূরা নাহল, আয়াত: ৯০)।
  • হাদিসের নির্দেশনা:
  • রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “তোমরা অত্যাচার থেকে দূরে থাকো, কারণ অত্যাচার কেয়ামতের দিন অন্ধকারে পরিণত হবে” (সহীহ মুসলিম)।
  • আল্লাহ বলেছেন, “হে আমার বান্দাগণ, আমি নিজেকে ও তোমাদের ওপর জুলুম হারাম করেছি, সুতরাং তোমরা একে অপরের ওপর জুলুম করো না” (সহীহ মুসলিম)।
  • নবী (সাঃ) বলেছেন, “ন্যায়পরায়ণ শাসক (নেতা) সেই সাত শ্রেণীর মানুষের অন্তর্ভুক্ত, যাদের আল্লাহ তাঁর ছায়ার নিচে স্থান দেবেন সেদিন, যেদিন তাঁর ছায়া ছাড়া অন্য কোনো ছায়া থাকবে না” (সহীহ মুসলিম)। 

গুরুত্ব:

  • মৌলিক ইবাদত: ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ঈমানের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্যগুলির মধ্যে একটি।
  • সামাজিক ভারসাম্য: এটি সমাজে ভারসাম্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং জুলুম-অত্যাচার দূর করে।
  • আল্লাহর ভালোবাসা: আল্লাহ সুবিচারকারীদের ভালোবাসেন এবং তাদের প্রতিদান দেন। 

সুতরাং, ইনসাফ প্রতিষ্ঠা শুধু একটি ভালো কাজ নয়, বরং এটি আল্লাহর একটি অপরিহার্য ও বাধ্যতামূলক আদেশ, যা প্রত্যেক মুসলমানের জীবনে প্রতিফলিত হওয়া উচিত।

ইনসাফ কেন করতে হবে

ইনসাফ (ন্যায়বিচার) প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন কারণ এটি আল্লাহ্‌র আদেশ, যা ব্যক্তি ও সমাজের শান্তি, সাম্য এবং কল্যাণ নিশ্চিত করে; এটি মানুষের মর্যাদা রক্ষা করে, সততা ও নৈতিকতা বৃদ্ধি করে এবং পক্ষপাতিত্ব ও জুলুম দূর করে, যা একটি সুস্থ ও উন্নত সমাজ গঠনের অপরিহার্য ভিত্তি। ইনসাফ একদিকে যেমন আল্লাহর হক আদায়, তেমনি বান্দার হক আদায় ও সঠিক বিচার নিশ্চিত করারও উপায়। 

ইনসাফ করার কারণসমূহ:

  • আল্লাহর নির্দেশ: আল্লাহ্‌ তা'আলা পবিত্র কুরআনে ন্যায়পরায়ণতা ও সুবিচারের আদেশ দিয়েছেন এবং বলেছেন যে তিনি ইনসাফকারীদের ভালোবাসেন (সুরা নিসা: ৫৮, সুরা নাহল: ৯০)।
  • সামাজিক শান্তি ও সাম্য: ইনসাফ ছাড়া সমাজে শান্তি, নিরাপত্তা এবং মানবিকতা ধ্বংস হয়। সুবিচার ব্যক্তি, পরিবার ও রাষ্ট্রের সর্বস্তরে সাম্য প্রতিষ্ঠা করে।
  • ব্যক্তিত্ব গঠন ও নৈতিকতা: শিশুদের মধ্যে ইনসাফের গুরুত্ব শেখানো হলে তারা সৎ ও ন্যায়পরায়ণ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে। এটি অন্যের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে শেখায়।
  • পক্ষপাত ও জুলুম প্রতিরোধ: ইনসাফ শত্রু-মিত্র, আত্মীয়-অনাত্মীয় সবার প্রতি সমান আচরণ নিশ্চিত করে এবং পক্ষপাত, স্বজনপ্রীতি ও জুলুমকে প্রতিরোধ করে।
  • মানবিক মর্যাদা রক্ষা: সুবিচার মানুষের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করে এবং তাদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় করে।
  • ধর্মীয় ও নৈতিক বাধ্যবাধকতা: এটি শুধু সামাজিক নয়, ধর্মীয় দায়িত্বও বটে। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য এবং তাকওয়া অর্জনের জন্য ইনসাফ করা অপরিহার্য। 

সংক্ষেপে, ইনসাফ এমন একটি মৌলিক নীতি যা মানব সমাজকে অন্যায় ও অরাজকতা থেকে রক্ষা করে একটি উন্নত, শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে সাহায্য করে। 

ইনসাফের প্রয়োজনীয়তা

ইনসাফ তথা ন্যায়বিচার এমন এক অপরিহার্য ও প্রশংসিত গুণ, যা ছাড়া মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক জীবনে শান্তি, শৃঙ্খলা, উন্নতি, সমৃদ্ধি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা সম্ভব নয়। মানবজাতির সার্বিক উন্নতি, সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তার জন্য ‘ইনসাফ’ না থাকার কারণে মানবজীবনের সর্বস্তরে অন্যায়-অবিচার সংক্রামক ব্যাধির ন্যায় ছড়ায়। মানুষের স্বভাবে স্বার্থপরতা, হিংসা-বিদ্বেষ, যেকোনো মূল্যে নিজ স্বার্থ হাসিলের প্রবণতা জন্ম নেয়। এমন মনোবৃত্তির কারণে মানুষ লোভ-লালসায় পতিত হয়, আর লোভ-লালসা থেকে মনে হিংসা-বিদ্বেষ চরম পর্যায়ে পৌঁছে শত্রুতার জন্ম দেয়। মানুষ যখন ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক জীবন পর্যন্ত সর্বস্তরে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবে, তখন কেউ কারও প্রতি অন্যায়-অবিচার করবে না, কারও অধিকার খর্ব হবে না; শান্তি-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিঘিœত হবে না। তখন মানুষের মধ্যে পরস্পরে ভালোবাসা, সৌন্দর্য ও সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় থাকবে। এ কারণে আল্লাহ মানুষকে ন্যায়বিচারের নির্দেশ দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা, সদাচরণ এবং আত্মীয়-স্বজনকে দান করার আদেশ দেন এবং তিনি অশ্লীলতা, অসংগত কাজ এবং অবাধ্যতা করতে বারণ করেন।’ সুরা নাহল : ৯০

ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে সাক্ষীদের সঠিক এবং সত্য সাক্ষী দেওয়ার বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে। ইরশাদ হচ্ছে, ‘যখন তোমরা কথা বলো (বিচার কিংবা সাক্ষী হিসেবে), তখন সুবিচার করো, যদিও সে আত্মীয়ও হয়।’ সুরা আনআম : ১৫৩

অনুরূপ কোনো ধনী প্রভাবশালী ব্যক্তির ব্যাপারে কোনো প্রকার পক্ষপাতিত্ব কিংবা অবিচার না করার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘হে ইমানদাররা, তোমরা ন্যায়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকো; আল্লাহর ওয়াস্তে ন্যায়সংগত সাক্ষ্যদান করো, তাতে তোমাদের নিজের বা পিতা-মাতার অথবা নিকটবর্তী আত্মীয়-স্বজনের যদি ক্ষতি হয় তবুও। কেউ যদি ধনী কিংবা দরিদ্র হয়, তবে আল্লাহ তাদের শুভাকাক্সক্ষী তোমাদের চাইতে বেশি। অতএব, তোমরা বিচার করতে গিয়ে রিপুর কামনা-বাসনার অনুসরণ করো না। আর যদি তোমরা ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে কথা বলো কিংবা পাশ কাটিয়ে যাও, তবে আল্লাহ তোমাদের যাবতীয় কাজ কর্ম সম্পর্কে অবগত।’ সুরা আন নিসা : ১৩৫

বিচারকাজে কোনো প্রকার উপঢৌকন কিংবা উৎকোচ দিয়ে বিচারকের রায় নিজের কিংবা নিজ পক্ষের কারও অনুকূলে আনার চেষ্টার বিরুদ্ধে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তোমরা নিজেদের মধ্যে একে অন্যের ধন অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না এবং মানুষের ধন-সম্পদের কিয়দংশ জেনেশুনে অন্যায়ভাবে গ্রাস করার উদ্দেশে বিচারকদের ঘুষ দিয়ো না।’ সুরা আল বাকারা : ১৮৮

ইসলামের নির্দেশ হলো, দুই পক্ষের মধ্যে সম্পাদিত লেনদেন সংক্রান্ত কোনো চুক্তি লেখার ক্ষেত্রেও লেখককে ন্যায় অবলম্বন করতে হবে। ন্যায়বিচারের তাকিদ দিয়ে আল্লাহ বলেন, ‘হে ইমানদাররা! তোমরা যখন নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য পরস্পর ঋণ দেওয়া-নেওয়া করো, তখন তা লিখে নাও।সুরা বাকারা : ২৮২

জীবনের কেউ যদি একাধিক বিয়ে করে, এখানেও ন্যায়বিচারে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একাধিক বিয়ে করলে তাদের মধ্যে সুবিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অপরাগতার আশঙ্কা থাকলে শরিয়ত একাধিক বিয়ের অনুমতি দেয়নি। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর যদি এরূপ আশঙ্কা করো যে, তাদের মধ্যে ন্যায়সংগত আচরণ বজায় রাখতে পারবে না তবে, একটিই বিয়ে করো।’ সুরা নিসা : ৩

জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইনসাফ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সমাজ ও রাষ্ট্রে ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত না হলে অনেক ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।। রাষ্ট্রীয়ভাবে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা না হলে, হিংসা বাড়ে, অনৈতিকতা ও বিশৃঙ্খলা ছড়ায়, জনগণ সরকারের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলে। শুরু হয় ভয়ের রাজত্ব। যা বর্তমান বিশ্বে লক্ষণীয়। সামাজিক ক্ষেত্রে ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত না হলে, সমাজে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য বাড়ে, সামাজিক ন্যায়বিচার ভূলুণ্ঠিত হয়, ভিক্ষাবৃত্তি ও চুরি ডাকাতি বৃদ্ধি পায়। সুদখোরদের আবির্ভাব ঘটে, যারা সামান্য কিছু টাকাও সুদ ছাড়া ধার দিতে চায় না।

পারিবারিক ক্ষেত্রে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা না হলে, পরিবারের বড়দের প্রতি ছোটদের মন থেকে সম্মান কমতে থাকে। বিবাহ বিচ্ছেদ বাড়ে, সন্তান বিগড়ে যায়। শিক্ষাক্ষেত্রে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা না হলে, অপেক্ষাকৃত গরিব শিক্ষার্থীরা শিক্ষার সঠিক আলো থেকে বঞ্চিত হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর থেকে শিক্ষার্থীদের আস্থা কমতে থাকে। বিদ্যালয় কমিটি সুযোগ সন্ধানীর ভূমিকা পালন করে। অর্থের বিনিময়ে শিক্ষার মূল্যায়ন হয়, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

ইনসাফ কেন করতে হবে

ইনসাফ বা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা আল্লাহ্ আদেশ: সুবিচার করলে ব্যক্তি সমাজের শান্তি, সাম্য এবং কল্যাণ নিশ্চিত হয়। 

Text
allahisourrabb
allahisourrabb

ইনসাফ বা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা আল্লাহ্ আদেশ:সুবিচার করলে  ব্যক্তি সমাজের শান্তি, সাম্য এবং কল্যাণ নিশ্চিত হয়।

ইনসাফ, সুবিচার বা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা আল্লাহ্‌র আদেশঃ

ইনসাফ (ন্যায়বিচার) প্রতিষ্ঠা করা আল্লাহ্‌র সুস্পষ্ট আদেশ, যা পবিত্র কুরআন ও হাদিসে বারবার গুরুত্বারোপ করা হয়েছে; এটি মুমিনদের জন্য একটি অপরিহার্য দায়িত্ব, এমনকি নিজের বা প্রিয়জনের বিরুদ্ধে হলেও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর নির্দেশ রয়েছে, কারণ আল্লাহ সুবিচারকারীদের ভালোবাসেন এবং এটি তাকওয়ার নিকটবর্তী। 

কুরআন ও হাদিসের আলোকে:

  • কুরআনের নির্দেশ:
  • “তোমরা যখন মানুষের মাঝে বিচারকার্য পরিচালনা করবে তখন ন্যায়পরায়ণতার সঙ্গে বিচার করবে” (সূরা নিসা, আয়াত: ৫৮)।
  • “তুমি তাদের মধ্যে বিচারকার্য পরিচালনা করলে সুবিচার করবে। নিশ্চয় আল্লাহ সুবিচারকারীদের ভালোবাসেন” (সূরা মায়েদা, আয়াত: ৪২)।
  • “হে মু'মিনগণ! তোমরা আল্লাহর উদ্দেশে বিধানসমূহ পূর্ণ রূপে প্রতিষ্ঠাকারী ও ন্যায়ের সাথে সাক্ষ্যদানকারী হয়ে যাও… তোমরা ন্যায়বিচার কর, এটা আল্লাহ-ভীতির অধিকতর নিকটবর্তী” (সূরা মায়েদা, আয়াত: ৮)।
  • “আল্লাহ কমান্ড করেন ন্যায়বিচার ও সদ্ব্যবহারের” (সূরা নাহল, আয়াত: ৯০)।
  • হাদিসের নির্দেশনা:
  • রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “তোমরা অত্যাচার থেকে দূরে থাকো, কারণ অত্যাচার কেয়ামতের দিন অন্ধকারে পরিণত হবে” (সহীহ মুসলিম)।
  • আল্লাহ বলেছেন, “হে আমার বান্দাগণ, আমি নিজেকে ও তোমাদের ওপর জুলুম হারাম করেছি, সুতরাং তোমরা একে অপরের ওপর জুলুম করো না” (সহীহ মুসলিম)।
  • নবী (সাঃ) বলেছেন, “ন্যায়পরায়ণ শাসক (নেতা) সেই সাত শ্রেণীর মানুষের অন্তর্ভুক্ত, যাদের আল্লাহ তাঁর ছায়ার নিচে স্থান দেবেন সেদিন, যেদিন তাঁর ছায়া ছাড়া অন্য কোনো ছায়া থাকবে না” (সহীহ মুসলিম)। 

গুরুত্ব:

  • মৌলিক ইবাদত: ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ঈমানের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্যগুলির মধ্যে একটি।
  • সামাজিক ভারসাম্য: এটি সমাজে ভারসাম্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং জুলুম-অত্যাচার দূর করে।
  • আল্লাহর ভালোবাসা: আল্লাহ সুবিচারকারীদের ভালোবাসেন এবং তাদের প্রতিদান দেন। 

সুতরাং, ইনসাফ প্রতিষ্ঠা শুধু একটি ভালো কাজ নয়, বরং এটি আল্লাহর একটি অপরিহার্য ও বাধ্যতামূলক আদেশ, যা প্রত্যেক মুসলমানের জীবনে প্রতিফলিত হওয়া উচিত।

ইনসাফ কেন করতে হবে

ইনসাফ (ন্যায়বিচার) প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন কারণ এটি আল্লাহ্‌র আদেশ, যা ব্যক্তি ও সমাজের শান্তি, সাম্য এবং কল্যাণ নিশ্চিত করে; এটি মানুষের মর্যাদা রক্ষা করে, সততা ও নৈতিকতা বৃদ্ধি করে এবং পক্ষপাতিত্ব ও জুলুম দূর করে, যা একটি সুস্থ ও উন্নত সমাজ গঠনের অপরিহার্য ভিত্তি। ইনসাফ একদিকে যেমন আল্লাহর হক আদায়, তেমনি বান্দার হক আদায় ও সঠিক বিচার নিশ্চিত করারও উপায়। 

ইনসাফ করার কারণসমূহ:

  • আল্লাহর নির্দেশ: আল্লাহ্‌ তা'আলা পবিত্র কুরআনে ন্যায়পরায়ণতা ও সুবিচারের আদেশ দিয়েছেন এবং বলেছেন যে তিনি ইনসাফকারীদের ভালোবাসেন (সুরা নিসা: ৫৮, সুরা নাহল: ৯০)।
  • সামাজিক শান্তি ও সাম্য: ইনসাফ ছাড়া সমাজে শান্তি, নিরাপত্তা এবং মানবিকতা ধ্বংস হয়। সুবিচার ব্যক্তি, পরিবার ও রাষ্ট্রের সর্বস্তরে সাম্য প্রতিষ্ঠা করে।
  • ব্যক্তিত্ব গঠন ও নৈতিকতা: শিশুদের মধ্যে ইনসাফের গুরুত্ব শেখানো হলে তারা সৎ ও ন্যায়পরায়ণ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে। এটি অন্যের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে শেখায়।
  • পক্ষপাত ও জুলুম প্রতিরোধ: ইনসাফ শত্রু-মিত্র, আত্মীয়-অনাত্মীয় সবার প্রতি সমান আচরণ নিশ্চিত করে এবং পক্ষপাত, স্বজনপ্রীতি ও জুলুমকে প্রতিরোধ করে।
  • মানবিক মর্যাদা রক্ষা: সুবিচার মানুষের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করে এবং তাদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় করে।
  • ধর্মীয় ও নৈতিক বাধ্যবাধকতা: এটি শুধু সামাজিক নয়, ধর্মীয় দায়িত্বও বটে। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য এবং তাকওয়া অর্জনের জন্য ইনসাফ করা অপরিহার্য। 

সংক্ষেপে, ইনসাফ এমন একটি মৌলিক নীতি যা মানব সমাজকে অন্যায় ও অরাজকতা থেকে রক্ষা করে একটি উন্নত, শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে সাহায্য করে। 

ইনসাফের প্রয়োজনীয়তা

ইনসাফ তথা ন্যায়বিচার এমন এক অপরিহার্য ও প্রশংসিত গুণ, যা ছাড়া মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক জীবনে শান্তি, শৃঙ্খলা, উন্নতি, সমৃদ্ধি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা সম্ভব নয়। মানবজাতির সার্বিক উন্নতি, সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তার জন্য ‘ইনসাফ’ না থাকার কারণে মানবজীবনের সর্বস্তরে অন্যায়-অবিচার সংক্রামক ব্যাধির ন্যায় ছড়ায়। মানুষের স্বভাবে স্বার্থপরতা, হিংসা-বিদ্বেষ, যেকোনো মূল্যে নিজ স্বার্থ হাসিলের প্রবণতা জন্ম নেয়। এমন মনোবৃত্তির কারণে মানুষ লোভ-লালসায় পতিত হয়, আর লোভ-লালসা থেকে মনে হিংসা-বিদ্বেষ চরম পর্যায়ে পৌঁছে শত্রুতার জন্ম দেয়। মানুষ যখন ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক জীবন পর্যন্ত সর্বস্তরে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবে, তখন কেউ কারও প্রতি অন্যায়-অবিচার করবে না, কারও অধিকার খর্ব হবে না; শান্তি-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিঘিœত হবে না। তখন মানুষের মধ্যে পরস্পরে ভালোবাসা, সৌন্দর্য ও সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় থাকবে। এ কারণে আল্লাহ মানুষকে ন্যায়বিচারের নির্দেশ দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা, সদাচরণ এবং আত্মীয়-স্বজনকে দান করার আদেশ দেন এবং তিনি অশ্লীলতা, অসংগত কাজ এবং অবাধ্যতা করতে বারণ করেন।’ সুরা নাহল : ৯০

ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে সাক্ষীদের সঠিক এবং সত্য সাক্ষী দেওয়ার বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে। ইরশাদ হচ্ছে, ‘যখন তোমরা কথা বলো (বিচার কিংবা সাক্ষী হিসেবে), তখন সুবিচার করো, যদিও সে আত্মীয়ও হয়।’ সুরা আনআম : ১৫৩

অনুরূপ কোনো ধনী প্রভাবশালী ব্যক্তির ব্যাপারে কোনো প্রকার পক্ষপাতিত্ব কিংবা অবিচার না করার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘হে ইমানদাররা, তোমরা ন্যায়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকো; আল্লাহর ওয়াস্তে ন্যায়সংগত সাক্ষ্যদান করো, তাতে তোমাদের নিজের বা পিতা-মাতার অথবা নিকটবর্তী আত্মীয়-স্বজনের যদি ক্ষতি হয় তবুও। কেউ যদি ধনী কিংবা দরিদ্র হয়, তবে আল্লাহ তাদের শুভাকাক্সক্ষী তোমাদের চাইতে বেশি। অতএব, তোমরা বিচার করতে গিয়ে রিপুর কামনা-বাসনার অনুসরণ করো না। আর যদি তোমরা ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে কথা বলো কিংবা পাশ কাটিয়ে যাও, তবে আল্লাহ তোমাদের যাবতীয় কাজ কর্ম সম্পর্কে অবগত।’ সুরা আন নিসা : ১৩৫

বিচারকাজে কোনো প্রকার উপঢৌকন কিংবা উৎকোচ দিয়ে বিচারকের রায় নিজের কিংবা নিজ পক্ষের কারও অনুকূলে আনার চেষ্টার বিরুদ্ধে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তোমরা নিজেদের মধ্যে একে অন্যের ধন অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না এবং মানুষের ধন-সম্পদের কিয়দংশ জেনেশুনে অন্যায়ভাবে গ্রাস করার উদ্দেশে বিচারকদের ঘুষ দিয়ো না।’ সুরা আল বাকারা : ১৮৮

ইসলামের নির্দেশ হলো, দুই পক্ষের মধ্যে সম্পাদিত লেনদেন সংক্রান্ত কোনো চুক্তি লেখার ক্ষেত্রেও লেখককে ন্যায় অবলম্বন করতে হবে। ন্যায়বিচারের তাকিদ দিয়ে আল্লাহ বলেন, ‘হে ইমানদাররা! তোমরা যখন নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য পরস্পর ঋণ দেওয়া-নেওয়া করো, তখন তা লিখে নাও।সুরা বাকারা : ২৮২

জীবনের কেউ যদি একাধিক বিয়ে করে, এখানেও ন্যায়বিচারে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একাধিক বিয়ে করলে তাদের মধ্যে সুবিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অপরাগতার আশঙ্কা থাকলে শরিয়ত একাধিক বিয়ের অনুমতি দেয়নি। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর যদি এরূপ আশঙ্কা করো যে, তাদের মধ্যে ন্যায়সংগত আচরণ বজায় রাখতে পারবে না তবে, একটিই বিয়ে করো।’ সুরা নিসা : ৩

জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইনসাফ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সমাজ ও রাষ্ট্রে ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত না হলে অনেক ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।। রাষ্ট্রীয়ভাবে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা না হলে, হিংসা বাড়ে, অনৈতিকতা ও বিশৃঙ্খলা ছড়ায়, জনগণ সরকারের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলে। শুরু হয় ভয়ের রাজত্ব। যা বর্তমান বিশ্বে লক্ষণীয়। সামাজিক ক্ষেত্রে ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত না হলে, সমাজে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য বাড়ে, সামাজিক ন্যায়বিচার ভূলুণ্ঠিত হয়, ভিক্ষাবৃত্তি ও চুরি ডাকাতি বৃদ্ধি পায়। সুদখোরদের আবির্ভাব ঘটে, যারা সামান্য কিছু টাকাও সুদ ছাড়া ধার দিতে চায় না।

পারিবারিক ক্ষেত্রে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা না হলে, পরিবারের বড়দের প্রতি ছোটদের মন থেকে সম্মান কমতে থাকে। বিবাহ বিচ্ছেদ বাড়ে, সন্তান বিগড়ে যায়। শিক্ষাক্ষেত্রে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা না হলে, অপেক্ষাকৃত গরিব শিক্ষার্থীরা শিক্ষার সঠিক আলো থেকে বঞ্চিত হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর থেকে শিক্ষার্থীদের আস্থা কমতে থাকে। বিদ্যালয় কমিটি সুযোগ সন্ধানীর ভূমিকা পালন করে। অর্থের বিনিময়ে শিক্ষার মূল্যায়ন হয়, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

ইনসাফ কেন করতে হবে

ইনসাফ বা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা আল্লাহ্ আদেশ: সুবিচার করলে ব্যক্তি সমাজের শান্তি, সাম্য এবং কল্যাণ নিশ্চিত হয়। 

Answer
lemedstudent2021
lemedstudent2021

the question wasnt asked in good faith lol but rather as a supposed gotcha which i think reflects in the wording, yk implying that jihad is pure warfare (hence the ethics of) when its so much more than that.

jihad in arabic comes from the root word jahada which means to strive or to struggle to reach. to put in the effort essentially. and in islam intention matters so u will typically see it defined as making an effort for the sake of Allah :>

for example i struggle to wake up early be it for fajr (prayer) or for uni and i often want to throw away my life and career away because im so damn tired and dont want to live. however i try to do my best and that fun fact is jihad! yes anon u read that correct for me getting out of bed is indeed jihad lol.

jihad is an umbrella term and can be divided either into category or application. if by category theres major (jihad of the nafs; the self) and minor (jihad al qital or the jihad of physical fighting/ warfare), whereas application there are many like by jihad via the spoken or written word, jihad of money, or preparing those who will be doing the fighting and aiding them by looking after their families. and so on and so forth

the major jihad gets sidelined for the minor jihad that gets wrongly used or thrown around in conversations as a synonym for terrorism and war crimes etc. which anyone with a shred of common sense and critical thinking skills should be able to discern that oppression and harm are inherently contradictory to the teachings of islam, and that the incorrect application and manipulated justification is just exactly that; its incorrect and manipulated. but thats not what pays the bills sadly. in the mean time learn to seperate the word jihad from the instant association of war or conflict or even crusade.

now the ethics of warfare is a broad topic (sun tzu comes to mind /j) but here are the things i wanted to highlight in response to ur ask:

  • peace and preservation of life are so very intrinsic to islam so dont lose sight of that please. “and whoever saves a life, it will be as if they saved all of humanity” safekeeping the self or the nafs is one of the 5 maqasid of shariah (another word we need to work on deconstructing) or the objectives/ pillars of islamic legislation
  • seriously dont underestimate how important the sanctity of life is lol
  • and on that note war only comes after every single route of peace has been exhausted. u dont escalate either if war is declared on u thats when you join.
  • and even then theres a code of conduct to adhere to
  • for example you cant even harm a tree (TREE) bc this is corruption of the land. let alone the elderly and children and women and places of worship and anyone who isnt in combat etc. all off limits. a tREE
  • this article by yaqeen institute lays it out really well and is an all around excellent read on the topic, very much recommend

if i remember anything else ill add it inshallah lol i hope this contains the answer(s) u were looking for but feel free to follow up :]

Text
heplev
heplev

ISIS-Extremismus oder islamische Doktrin?

Raymond Ibrahim, 28. Dezember 2025

Eine Lüge verbirgt per Definition die Wahrheit. Und wenn unangenehme, aber wesentliche Wahrheiten verborgen bleiben, werden sie weder anerkannt noch angegangen und letztlich nie gelöst.

Dieses Prinzip unterstreicht eine der folgenreichsten Unwahrheiten unserer Zeit: die Behauptung, dass Gewalt, die im Namen des Islam verübt wird, völlig losgelöst vom Islam…


View On WordPress

Text
heplev
heplev

Wann wird der Westen anfangen sich zu wehren?

Die Männer des Westens sind im Krieg – und sollten anfangen sich auch so zu verhalten.

Bruce Thornton, FrontPage Mag, 23. Dezember 2025

Elf Tage vor Weihnachten verübten Jihadisten während eines Hanukka-Festes einen Angriff an einem berühmten australischen Strand und töteten 15 Feiernde. Solche Gewalt ist Teil einer Kampagne in einem Krieg gegen „Ungläubige“, der vor 1500 Jahren mit dem…


View On WordPress