#productive

20 posts loaded — scroll for more

Text
academicallyinsufferable
academicallyinsufferable

To do list

Mon, march 16

1) read the Quran 📖

2) history 25 questions and quiz ⏰

3) IT 2 slides 💻

4) review basics 🤔

5) read a few pages of six of crows 📚

6) DON’T FORGET TO HAVE FUN ☺️

Text
clara-22q
clara-22q
Text
academicallyinsufferable
academicallyinsufferable

Things I will do today

1) complete the 5 IT quizzes ⌚

2) Review the basics

3) Research instead of doom scrolling 📱

4) read a few pages of six of crows 📚

5) Read Quran

6) Invite a friend for iftar


Reminder: everyone’s timeline and progress is different and it’s ok to take your time to figure things out

Text
clara-22q
clara-22q
Text
cielsanslumiere
cielsanslumiere

I proceeded to lose my mind on a thing for 6 hours and finally decided it’s not worth it.

Text
blessedanddedicated
blessedanddedicated

Let’s plan this day out..

Text
clara-22q
clara-22q
Text
adhd-studyblur
adhd-studyblur

✨️🤎30 day studyblr challenge🤎✨️

Day 9: A photo of your desk in use



Less my desk and more the two/three spaces i took up in the library but sacrifices must be made for the Flow

Text
yearofhappy20
yearofhappy20

march 8

today i did some crafting, which was nice after so long not doing it

Text
firer3d
firer3d

meant to lock in today. Forgot my headphones though. So I wrote a little bit of fanfiction and played that mlp game.

Im very productive

Text
cosmos-journaling
cosmos-journaling

DAY 5!

Vyv 30 (shocker)


Already feeling burnt out for this but daily journaling is supposed to be good so here we go:


Good day

VERY GOOD DAY


[[MORE]]

Hot hot shower in the dark last night before bed

Good sleep

Laid in bed too long but was still ready on time so whatever

Helped the maintenance guy with removing dead lights. I love being a lil helper, please let me hand and hold things for you I feel so special

4 pallets of beer today!! Fuck! But we got it done in like 2h so that’s actually really good? 3 new items.. and it was on time/early which was crazy because we just got a huge dump of snow yesterday and then it snowed all day today..

I made like idk $6+ in tips ? (Crazy considering this is retail and who the fuck tips a retail worker??)

Got to play with a dog (Bubs I love you… Even if your owner is odd..)

Did like 200 stitches today on my Iron Lung piece, finished the words! Just need to finish the eye.

Good walk home, good dog walk, good music, good dinner…

Did some binder research & shopping

Got like 14k steps in!

Good, good day.

Text
planetaryacademia
planetaryacademia

An image of a scrabble-based crossword game called Q-less. There are 12 dice that each have letters on them. The daily roll resulted in three words: pug, talk, and lunatic. ALT

Day 1/30

Tasks

  1. Weekly readings ✔️
  2. Three discussion posts ✔️
  3. Six response posts ✖️(pending responses)
  4. Advanced archive assignment ✖️ (due date extension)
  5. Daily Q-Less ✔️

Daily Rating: ⭐⭐

Text
ticketmastersince2k4
ticketmastersince2k4

Time Drops #142: Week Of March 1, 2026

Good morning, Ticketholders!

I’m keeping this short and sweet in the spirit of the month to come. Here’s the content calendar for the chill month of March.

Enjoy!

Text
quransunnahdawah
quransunnahdawah

রমজানের গুরুত্বপূর্ণ আমলগুলোর মধ্যে ফরজ রোজা রাখা, তারাবিহ সালাত আদায়, প্রচুর কুরআন তিলাওয়াত করা, শেষ দশকে ইতিকাফ করা এবং লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করা প্রধান

রমজানের গুরুত্বপূর্ণ আমলগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো সঠিক নিয়তে রোজা রাখা, সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা, তারাবিহ পড়া, কুরআন তিলাওয়াত ও খতম করা, ইফতার করানো, শেষ দশকে লাইলাতুল কদর তালাশ করা, প্রচুর দান-সাদকা করা এবং বেশি বেশি দোয়া ও ইস্তিগফার করা। 

রমজানের প্রধান আমলসমূহ:

  • ফরজ রোজা রাখা: ঈমান ও আত্মসচেতনতার সাথে রমজানের রোজা পালন করা।
  • তারাবিহ নামাজ: প্রতিদিন রাতে তারাবিহর নামাজ আদায় করা ।
  • কুরআন তিলাওয়াত ও অধ্যয়ন: কুরআন নাজিলের মাস হওয়ায় বেশি বেশি কুরআন পড়া ও বোঝা।
  • ইফতার করানো: রোজাদারকে ইফতার করানো, এতে রোজাদারের সমপরিমাণ সওয়াব পাওয়া যায়।
  • শেষ দশকে ইতিকাফ: রমজানের শেষ দশ দিন মসজিদে অবস্থান করে ইবাদত করা।
  • লাইলাতুল কদর তালাশ করা: শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে ভাগ্যরজনী বা কদরের রাত খোঁজা ।
  • দান-সাদকা ও ফিতরা: বেশি বেশি দান করা এবং ঈদের আগেই ফিতরা আদায় করা।
  • সেহরি খাওয়া: শেষ রাতে সেহরি খাওয়া সুন্নত।
  • দোয়া ও ইস্তিগফার: রোজার সময় ও ইফতারের আগে বেশি বেশি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া ।
  • অসৎ কাজ বর্জন: মিথ্যা, গীবত ও ঝগড়া-বিবাদ থেকে নিজেকে বিরত রাখা। 

এই পবিত্র মাসে প্রতিটি নেক আমলের সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি করে দেওয়া হয় । 

রমজানের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আমল

রমজান মাসের প্রতিটি মুহূর্তকে যেন কাজে লাগানো যায়, ঈমানদারের মধ্যে সে প্রচেষ্টা থাকা উচিত। কেননা এ মাস আমলের মাস; ইবাদতের মাস। এটি ইবাদতের বসন্তকাল। এখানে রমজানের বিশেষ কিছু আমল উল্লেখ করা হলো—

১. রোজা রাখা : ইসলামের পাঁচটি রুকনের একটি হলো রোজা।

আর রমজান মাসে রোজা রাখা ফরজ। মহান আল্লাহ বলেন, ‘সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে এ মাসে উপস্থিত হবে, সে যেন তাতে রোজা পালন করে।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ১৮৫)

২. সাহরি খাওয়া : হাদিসে এসেছে, ‘সাহরি হলো বরকতময় খাবার। তাই কখনো সাহরি খাওয়া বাদ দিয়ো না।

এক ঢোক পানি পান করে হলেও সাহরি খেয়ে নাও। কেননা সাহরির খাবার গ্রহণকারীকে আল্লাহ তাআলা ও তাঁর ফেরেশতারা স্মরণ করে থাকেন।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ১১১০১)

৩. ইফতার করা : সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করা ফজিলতপূর্ণ আমল। এতে কোনো বিলম্ব না করা।

কেননা হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি রোজা পালন করবে, সে যেন খেজুর দিয়ে ইফতার করে, খেজুর না পেলে পানি দিয়ে ইফতার করবে। কেননা পানি হলো অধিক পবিত্র।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ২৩৫৭)

৪. তারাবি ও তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করা : রমজানে কিয়ামুল লাইল করার কথা আছে। কিয়ামুল লাইল শব্দের অর্থ রাতের নামাজ। তারাবির নামাজ যেমন কিয়ামুল লাইলের মধ্যে পড়ে, তেমনি শেষ রাতে তাহাজ্জুদও সালাতুল লাইলের অন্তর্ভুক্ত।

সালাতুত তারাবি পড়া এ মাসের অন্যতম আমল। তারাবি পড়ার সময় তার হক আদায় করতে হবে। হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সওয়াব হাসিলের আশায় রমজানে কিয়ামু রমাদান (সালাতুত তারাবি) আদায় করবে, তার অতীতের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।’ (বুখারি, হাদিস : ২০০৯)

সাহাবায়ে কেরাম জামাতের সঙ্গে তারাবি শেষ না করে বাড়ি ফিরতেন না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি তারাবি শেষ করা পর্যন্ত ইমামের সঙ্গে থাকল, সে সারা রাত ইবাদতের নেকি পেল।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৮০৬)

৫. দান-সদকার পরিমাণ বাড়ানো : প্রখ্যাত সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস বলেন, ‘মহানবী (সা.) ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দানশীল। আর রমজানে তাঁর বদান্যতা আরো বেড়ে যেত।’(মুসলিম, হাদিস : ৩২০৮)

৬. ইতিকাফ : ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘মহানবী (সা.) রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন।’ (মুসলিম, হাদিস : ১১৭১)

৭. রোজাদারদের ইফতার করানো : রোজাদারকে ইফতার করালে রোজাদারের মতো রোজার সওয়াব পাওয়া যায়। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো রোজা পালনকারীকে (রোজাদারকে) ইফতার করাবে, সে রোজা পালনকারীর অনুরূপ সওয়াব লাভ করবে। এতে রোজা পালনকারীর সওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র হ্রাস করা হবে না।’ (মুসনাদ আহমদ, হাদিস : ২২৩০২)

৮. তাওবা ও ইস্তিগফার করা : সর্বদা তাওবা করা ওয়াজিব, বিশেষ করে এ মাসে তাওবা করা উচিত। এ মাসে তাওবার অনুকূল অবস্থা বিরাজ করে। শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়, জাহান্নাম থেকে মানুষকে মুক্তি দেওয়া হয়। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজান মাস পেয়েও তার পাপ ক্ষমা করাতে পারেনি, তার নাক ধুলায় ধূসরিত হোক।’ (জামেউল উসুল, হাদিস : ১৪১০)

৯. বেশি বেশি নেক আমল করা : রমজান মাসে অধিক হারে নেক আমল করতে চেষ্টা করা প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর জন্য একান্ত আবশ্যক, বিশেষ করে রমজানের শেষ দশকে। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘যখন রমজানের শেষ দশক এসে যেত, রাসুলুল্লাহ (সা.) তখন রাত জাগরণ করতেন, পরিবারবর্গকে নিদ্রা থেকে জাগিয়ে দিতেন, লুঙ্গি শক্ত ও ভালো করে বেঁধে (প্রস্তুতি গ্রহণ) নিতেন।’ (মুসলিম, হাদিস : ১১৭৪)

১০. বেশি বেশি জিকির করা : আল্লাহ তাআলার জিকির এমন এক মজবুত রজ্জু, যা সৃষ্টিকে স্রষ্টার সঙ্গে সম্পৃক্ত করে। তাঁর সান্নিধ্য লাভের পথ সুগম করে। মানুষকে উত্তম আদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত করে। সরল ও সঠিক পথের ওপর অবিচল রাখে। এ কারণে আল্লাহ তাআলা মুসলিম ব্যক্তিকে দিবা-রাত্রি গোপনে-প্রকাশ্যে জিকির করার আদেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘মুমিনরা! তোমরা আল্লাহকে বেশি পরিমাণে স্মরণ করো এবং সকাল-বিকাল আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করো।’ (সুরা : আহজাব, আয়াত : ৪১-৪২)

১১. একে অন্যকে কোরআন শোনানো : রমজান মাসে একজন অপরজনকে কোরআন শোনানো একটি উত্তম আমল। এটিকে দাওর বলা হয়। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, জিবরাইল (আ.) রমজানে প্রতি রাতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন এবং রাসুল (সা.) তাঁকে কোরআন শোনাতেন। (বুখারি, হাদিস : ১৯০২)

১২. কল্যাণকর কাজ বেশি বেশি করা : এ মাসে একটি ভালো কাজ অন্য মাসের চেয়ে অনেক বেশি উত্তম। সে জন্য যথাসম্ভব বেশি বেশি ভালো কাজ করতে হবে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘এ মাসের প্রতি রাতে একজন ঘোষণাকারী এই বলে আহবান করতে থাকে যে হে কল্যাণের অনুসন্ধানকারী, তুমি আরো অগ্রসর হও! হে অসৎ কাজের পথিক, তোমরা অন্যায় পথে চলা বন্ধ করো। (তুমি কি জানো?) এ মাসের প্রতি রাতে আল্লাহ তাআলা কত লোককে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৬৮৪)

১৩. লাইলাতুল কদর তালাশ করা : রমজান মাসে এমন একটি রাত আছে, যা হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। আল-কোরআনের ঘোষণা, ‘কদরের রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।’ (সুরা : কদর, আয়াত : ৪)

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াব পাওয়ার আশায় ইবাদত করবে, তাকে আগের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।’ (বুখারি, হাদিস : ৩৫)

১৪. তাকওয়া অর্জন করা : তাকওয়া এমন একটি গুণ, যা বান্দাকে আল্লাহর ভয়ে সব পাপ কাজ থেকে বিরত রাখে এবং তাঁর আদেশ মানতে বাধ্য করে। আর রমজান মাস তাকওয়া নামক গুণটি অর্জন করার এক বিশেষ মৌসুম। কোরআনে এসেছে, ‘হে ঈমানদাররা! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে করে তোমরা এর মাধ্যমে তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ১৮৩)

১৫. বিবাদ ও বেহায়াপনা থেকে বিরত থাকা : মাহে রমজানে মুমিনকে সব ঝগড়া-বিবাদ, মারামারি, অশ্লীল কথা ও বেহায়াপনা থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে, বিশেষ করে অশ্লীল গানবাজনা এবং রেডিও, টিভি ও মোবাইলের অশ্লীলতা থেকে দূরে থাকতে হবে। তবেই সিয়ামের সওয়াব ও উচ্চ মর্যাদা লাভ করা যাবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যখন তোমাদের কেউ সিয়াম পালন করবে, তখন সে কোনো মন্দ কথা বলবে না এবং বাজে বকবে না। যদি কেউ তাকে গালি দেয় বা লড়াই করতে আসে তখন সে যেন বলে, আমি ‘সায়েম—রোজাদার’।’
(বুখারি, হাদিস : ১৯০৪)

১৬. দোয়া করা : রোজাদারের দোয়া কবুল হয়। তাই প্রত্যেক সায়েমের উচিত আল্লাহর কাছে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ কামনা করে বেশি বেশি দোয়া করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তিন ব্যক্তির দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। (১) রোজাদার—যতক্ষণ না সে ইফতার করে, (২) ন্যায়নিষ্ঠ নেতা এবং (৩) মজলুমের দোয়া।’ (সহিহ ইবনু হিব্বান, হাদিস : ৩৪২৮) । মহান আল্লাহ আমাদের আমল করার তাওফিক দান করুন।আমিন।

রমজানের গুরুত্বপূর্ণ আমলগুলোর মধ্যে ফরজ রোজা রাখা, তারাবিহ সালাত আদায়, প্রচুর কুরআন তিলাওয়াত করা, শেষ দশকে ইতিকাফ করা এবং লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করা প্রধান

Text
tawhidrisalatakhirah
tawhidrisalatakhirah

রমজানের গুরুত্বপূর্ণ আমলগুলোর মধ্যে ফরজ রোজা রাখা, তারাবিহ সালাত আদায়, প্রচুর কুরআন তিলাওয়াত করা, শেষ দশকে ইতিকাফ করা এবং লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করা প্রধান

রমজানের গুরুত্বপূর্ণ আমলগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো সঠিক নিয়তে রোজা রাখা, সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা, তারাবিহ পড়া, কুরআন তিলাওয়াত ও খতম করা, ইফতার করানো, শেষ দশকে লাইলাতুল কদর তালাশ করা, প্রচুর দান-সাদকা করা এবং বেশি বেশি দোয়া ও ইস্তিগফার করা। 

রমজানের প্রধান আমলসমূহ:

  • ফরজ রোজা রাখা: ঈমান ও আত্মসচেতনতার সাথে রমজানের রোজা পালন করা।
  • তারাবিহ নামাজ: প্রতিদিন রাতে তারাবিহর নামাজ আদায় করা ।
  • কুরআন তিলাওয়াত ও অধ্যয়ন: কুরআন নাজিলের মাস হওয়ায় বেশি বেশি কুরআন পড়া ও বোঝা।
  • ইফতার করানো: রোজাদারকে ইফতার করানো, এতে রোজাদারের সমপরিমাণ সওয়াব পাওয়া যায়।
  • শেষ দশকে ইতিকাফ: রমজানের শেষ দশ দিন মসজিদে অবস্থান করে ইবাদত করা।
  • লাইলাতুল কদর তালাশ করা: শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে ভাগ্যরজনী বা কদরের রাত খোঁজা ।
  • দান-সাদকা ও ফিতরা: বেশি বেশি দান করা এবং ঈদের আগেই ফিতরা আদায় করা।
  • সেহরি খাওয়া: শেষ রাতে সেহরি খাওয়া সুন্নত।
  • দোয়া ও ইস্তিগফার: রোজার সময় ও ইফতারের আগে বেশি বেশি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া ।
  • অসৎ কাজ বর্জন: মিথ্যা, গীবত ও ঝগড়া-বিবাদ থেকে নিজেকে বিরত রাখা। 

এই পবিত্র মাসে প্রতিটি নেক আমলের সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি করে দেওয়া হয় । 

রমজানের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আমল

রমজান মাসের প্রতিটি মুহূর্তকে যেন কাজে লাগানো যায়, ঈমানদারের মধ্যে সে প্রচেষ্টা থাকা উচিত। কেননা এ মাস আমলের মাস; ইবাদতের মাস। এটি ইবাদতের বসন্তকাল। এখানে রমজানের বিশেষ কিছু আমল উল্লেখ করা হলো—

১. রোজা রাখা : ইসলামের পাঁচটি রুকনের একটি হলো রোজা।

আর রমজান মাসে রোজা রাখা ফরজ। মহান আল্লাহ বলেন, ‘সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে এ মাসে উপস্থিত হবে, সে যেন তাতে রোজা পালন করে।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ১৮৫)

২. সাহরি খাওয়া : হাদিসে এসেছে, ‘সাহরি হলো বরকতময় খাবার। তাই কখনো সাহরি খাওয়া বাদ দিয়ো না।

এক ঢোক পানি পান করে হলেও সাহরি খেয়ে নাও। কেননা সাহরির খাবার গ্রহণকারীকে আল্লাহ তাআলা ও তাঁর ফেরেশতারা স্মরণ করে থাকেন।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ১১১০১)

৩. ইফতার করা : সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করা ফজিলতপূর্ণ আমল। এতে কোনো বিলম্ব না করা।

কেননা হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি রোজা পালন করবে, সে যেন খেজুর দিয়ে ইফতার করে, খেজুর না পেলে পানি দিয়ে ইফতার করবে। কেননা পানি হলো অধিক পবিত্র।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ২৩৫৭)

৪. তারাবি ও তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করা : রমজানে কিয়ামুল লাইল করার কথা আছে। কিয়ামুল লাইল শব্দের অর্থ রাতের নামাজ। তারাবির নামাজ যেমন কিয়ামুল লাইলের মধ্যে পড়ে, তেমনি শেষ রাতে তাহাজ্জুদও সালাতুল লাইলের অন্তর্ভুক্ত।

সালাতুত তারাবি পড়া এ মাসের অন্যতম আমল। তারাবি পড়ার সময় তার হক আদায় করতে হবে। হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সওয়াব হাসিলের আশায় রমজানে কিয়ামু রমাদান (সালাতুত তারাবি) আদায় করবে, তার অতীতের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।’ (বুখারি, হাদিস : ২০০৯)

সাহাবায়ে কেরাম জামাতের সঙ্গে তারাবি শেষ না করে বাড়ি ফিরতেন না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি তারাবি শেষ করা পর্যন্ত ইমামের সঙ্গে থাকল, সে সারা রাত ইবাদতের নেকি পেল।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৮০৬)

৫. দান-সদকার পরিমাণ বাড়ানো : প্রখ্যাত সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস বলেন, ‘মহানবী (সা.) ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দানশীল। আর রমজানে তাঁর বদান্যতা আরো বেড়ে যেত।’(মুসলিম, হাদিস : ৩২০৮)

৬. ইতিকাফ : ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘মহানবী (সা.) রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন।’ (মুসলিম, হাদিস : ১১৭১)

৭. রোজাদারদের ইফতার করানো : রোজাদারকে ইফতার করালে রোজাদারের মতো রোজার সওয়াব পাওয়া যায়। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো রোজা পালনকারীকে (রোজাদারকে) ইফতার করাবে, সে রোজা পালনকারীর অনুরূপ সওয়াব লাভ করবে। এতে রোজা পালনকারীর সওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র হ্রাস করা হবে না।’ (মুসনাদ আহমদ, হাদিস : ২২৩০২)

৮. তাওবা ও ইস্তিগফার করা : সর্বদা তাওবা করা ওয়াজিব, বিশেষ করে এ মাসে তাওবা করা উচিত। এ মাসে তাওবার অনুকূল অবস্থা বিরাজ করে। শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়, জাহান্নাম থেকে মানুষকে মুক্তি দেওয়া হয়। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজান মাস পেয়েও তার পাপ ক্ষমা করাতে পারেনি, তার নাক ধুলায় ধূসরিত হোক।’ (জামেউল উসুল, হাদিস : ১৪১০)

৯. বেশি বেশি নেক আমল করা : রমজান মাসে অধিক হারে নেক আমল করতে চেষ্টা করা প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর জন্য একান্ত আবশ্যক, বিশেষ করে রমজানের শেষ দশকে। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘যখন রমজানের শেষ দশক এসে যেত, রাসুলুল্লাহ (সা.) তখন রাত জাগরণ করতেন, পরিবারবর্গকে নিদ্রা থেকে জাগিয়ে দিতেন, লুঙ্গি শক্ত ও ভালো করে বেঁধে (প্রস্তুতি গ্রহণ) নিতেন।’ (মুসলিম, হাদিস : ১১৭৪)

১০. বেশি বেশি জিকির করা : আল্লাহ তাআলার জিকির এমন এক মজবুত রজ্জু, যা সৃষ্টিকে স্রষ্টার সঙ্গে সম্পৃক্ত করে। তাঁর সান্নিধ্য লাভের পথ সুগম করে। মানুষকে উত্তম আদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত করে। সরল ও সঠিক পথের ওপর অবিচল রাখে। এ কারণে আল্লাহ তাআলা মুসলিম ব্যক্তিকে দিবা-রাত্রি গোপনে-প্রকাশ্যে জিকির করার আদেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘মুমিনরা! তোমরা আল্লাহকে বেশি পরিমাণে স্মরণ করো এবং সকাল-বিকাল আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করো।’ (সুরা : আহজাব, আয়াত : ৪১-৪২)

১১. একে অন্যকে কোরআন শোনানো : রমজান মাসে একজন অপরজনকে কোরআন শোনানো একটি উত্তম আমল। এটিকে দাওর বলা হয়। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, জিবরাইল (আ.) রমজানে প্রতি রাতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন এবং রাসুল (সা.) তাঁকে কোরআন শোনাতেন। (বুখারি, হাদিস : ১৯০২)

১২. কল্যাণকর কাজ বেশি বেশি করা : এ মাসে একটি ভালো কাজ অন্য মাসের চেয়ে অনেক বেশি উত্তম। সে জন্য যথাসম্ভব বেশি বেশি ভালো কাজ করতে হবে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘এ মাসের প্রতি রাতে একজন ঘোষণাকারী এই বলে আহবান করতে থাকে যে হে কল্যাণের অনুসন্ধানকারী, তুমি আরো অগ্রসর হও! হে অসৎ কাজের পথিক, তোমরা অন্যায় পথে চলা বন্ধ করো। (তুমি কি জানো?) এ মাসের প্রতি রাতে আল্লাহ তাআলা কত লোককে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৬৮৪)

১৩. লাইলাতুল কদর তালাশ করা : রমজান মাসে এমন একটি রাত আছে, যা হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। আল-কোরআনের ঘোষণা, ‘কদরের রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।’ (সুরা : কদর, আয়াত : ৪)

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াব পাওয়ার আশায় ইবাদত করবে, তাকে আগের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।’ (বুখারি, হাদিস : ৩৫)

১৪. তাকওয়া অর্জন করা : তাকওয়া এমন একটি গুণ, যা বান্দাকে আল্লাহর ভয়ে সব পাপ কাজ থেকে বিরত রাখে এবং তাঁর আদেশ মানতে বাধ্য করে। আর রমজান মাস তাকওয়া নামক গুণটি অর্জন করার এক বিশেষ মৌসুম। কোরআনে এসেছে, ‘হে ঈমানদাররা! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে করে তোমরা এর মাধ্যমে তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ১৮৩)

১৫. বিবাদ ও বেহায়াপনা থেকে বিরত থাকা : মাহে রমজানে মুমিনকে সব ঝগড়া-বিবাদ, মারামারি, অশ্লীল কথা ও বেহায়াপনা থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে, বিশেষ করে অশ্লীল গানবাজনা এবং রেডিও, টিভি ও মোবাইলের অশ্লীলতা থেকে দূরে থাকতে হবে। তবেই সিয়ামের সওয়াব ও উচ্চ মর্যাদা লাভ করা যাবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যখন তোমাদের কেউ সিয়াম পালন করবে, তখন সে কোনো মন্দ কথা বলবে না এবং বাজে বকবে না। যদি কেউ তাকে গালি দেয় বা লড়াই করতে আসে তখন সে যেন বলে, আমি ‘সায়েম—রোজাদার’।’
(বুখারি, হাদিস : ১৯০৪)

১৬. দোয়া করা : রোজাদারের দোয়া কবুল হয়। তাই প্রত্যেক সায়েমের উচিত আল্লাহর কাছে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ কামনা করে বেশি বেশি দোয়া করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তিন ব্যক্তির দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। (১) রোজাদার—যতক্ষণ না সে ইফতার করে, (২) ন্যায়নিষ্ঠ নেতা এবং (৩) মজলুমের দোয়া।’ (সহিহ ইবনু হিব্বান, হাদিস : ৩৪২৮) । মহান আল্লাহ আমাদের আমল করার তাওফিক দান করুন।আমিন।

রমজানের গুরুত্বপূর্ণ আমলগুলোর মধ্যে ফরজ রোজা রাখা, তারাবিহ সালাত আদায়, প্রচুর কুরআন তিলাওয়াত করা, শেষ দশকে ইতিকাফ করা এবং লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করা প্রধান

Text
ilyforallahswt
ilyforallahswt

রমজানের গুরুত্বপূর্ণ আমলগুলোর মধ্যে ফরজ রোজা রাখা, তারাবিহ সালাত আদায়, প্রচুর কুরআন তিলাওয়াত করা, শেষ দশকে ইতিকাফ করা এবং লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করা প্রধান

রমজানের গুরুত্বপূর্ণ আমলগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো সঠিক নিয়তে রোজা রাখা, সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা, তারাবিহ পড়া, কুরআন তিলাওয়াত ও খতম করা, ইফতার করানো, শেষ দশকে লাইলাতুল কদর তালাশ করা, প্রচুর দান-সাদকা করা এবং বেশি বেশি দোয়া ও ইস্তিগফার করা। 

রমজানের প্রধান আমলসমূহ:

  • ফরজ রোজা রাখা: ঈমান ও আত্মসচেতনতার সাথে রমজানের রোজা পালন করা।
  • তারাবিহ নামাজ: প্রতিদিন রাতে তারাবিহর নামাজ আদায় করা ।
  • কুরআন তিলাওয়াত ও অধ্যয়ন: কুরআন নাজিলের মাস হওয়ায় বেশি বেশি কুরআন পড়া ও বোঝা।
  • ইফতার করানো: রোজাদারকে ইফতার করানো, এতে রোজাদারের সমপরিমাণ সওয়াব পাওয়া যায়।
  • শেষ দশকে ইতিকাফ: রমজানের শেষ দশ দিন মসজিদে অবস্থান করে ইবাদত করা।
  • লাইলাতুল কদর তালাশ করা: শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে ভাগ্যরজনী বা কদরের রাত খোঁজা ।
  • দান-সাদকা ও ফিতরা: বেশি বেশি দান করা এবং ঈদের আগেই ফিতরা আদায় করা।
  • সেহরি খাওয়া: শেষ রাতে সেহরি খাওয়া সুন্নত।
  • দোয়া ও ইস্তিগফার: রোজার সময় ও ইফতারের আগে বেশি বেশি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া ।
  • অসৎ কাজ বর্জন: মিথ্যা, গীবত ও ঝগড়া-বিবাদ থেকে নিজেকে বিরত রাখা। 

এই পবিত্র মাসে প্রতিটি নেক আমলের সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি করে দেওয়া হয় । 

রমজানের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আমল

রমজান মাসের প্রতিটি মুহূর্তকে যেন কাজে লাগানো যায়, ঈমানদারের মধ্যে সে প্রচেষ্টা থাকা উচিত। কেননা এ মাস আমলের মাস; ইবাদতের মাস। এটি ইবাদতের বসন্তকাল। এখানে রমজানের বিশেষ কিছু আমল উল্লেখ করা হলো—

১. রোজা রাখা : ইসলামের পাঁচটি রুকনের একটি হলো রোজা।

আর রমজান মাসে রোজা রাখা ফরজ। মহান আল্লাহ বলেন, ‘সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে এ মাসে উপস্থিত হবে, সে যেন তাতে রোজা পালন করে।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ১৮৫)

২. সাহরি খাওয়া : হাদিসে এসেছে, ‘সাহরি হলো বরকতময় খাবার। তাই কখনো সাহরি খাওয়া বাদ দিয়ো না।

এক ঢোক পানি পান করে হলেও সাহরি খেয়ে নাও। কেননা সাহরির খাবার গ্রহণকারীকে আল্লাহ তাআলা ও তাঁর ফেরেশতারা স্মরণ করে থাকেন।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ১১১০১)

৩. ইফতার করা : সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করা ফজিলতপূর্ণ আমল। এতে কোনো বিলম্ব না করা।

কেননা হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি রোজা পালন করবে, সে যেন খেজুর দিয়ে ইফতার করে, খেজুর না পেলে পানি দিয়ে ইফতার করবে। কেননা পানি হলো অধিক পবিত্র।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ২৩৫৭)

৪. তারাবি ও তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করা : রমজানে কিয়ামুল লাইল করার কথা আছে। কিয়ামুল লাইল শব্দের অর্থ রাতের নামাজ। তারাবির নামাজ যেমন কিয়ামুল লাইলের মধ্যে পড়ে, তেমনি শেষ রাতে তাহাজ্জুদও সালাতুল লাইলের অন্তর্ভুক্ত।

সালাতুত তারাবি পড়া এ মাসের অন্যতম আমল। তারাবি পড়ার সময় তার হক আদায় করতে হবে। হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সওয়াব হাসিলের আশায় রমজানে কিয়ামু রমাদান (সালাতুত তারাবি) আদায় করবে, তার অতীতের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।’ (বুখারি, হাদিস : ২০০৯)

সাহাবায়ে কেরাম জামাতের সঙ্গে তারাবি শেষ না করে বাড়ি ফিরতেন না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি তারাবি শেষ করা পর্যন্ত ইমামের সঙ্গে থাকল, সে সারা রাত ইবাদতের নেকি পেল।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৮০৬)

৫. দান-সদকার পরিমাণ বাড়ানো : প্রখ্যাত সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস বলেন, ‘মহানবী (সা.) ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দানশীল। আর রমজানে তাঁর বদান্যতা আরো বেড়ে যেত।’(মুসলিম, হাদিস : ৩২০৮)

৬. ইতিকাফ : ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘মহানবী (সা.) রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন।’ (মুসলিম, হাদিস : ১১৭১)

৭. রোজাদারদের ইফতার করানো : রোজাদারকে ইফতার করালে রোজাদারের মতো রোজার সওয়াব পাওয়া যায়। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো রোজা পালনকারীকে (রোজাদারকে) ইফতার করাবে, সে রোজা পালনকারীর অনুরূপ সওয়াব লাভ করবে। এতে রোজা পালনকারীর সওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র হ্রাস করা হবে না।’ (মুসনাদ আহমদ, হাদিস : ২২৩০২)

৮. তাওবা ও ইস্তিগফার করা : সর্বদা তাওবা করা ওয়াজিব, বিশেষ করে এ মাসে তাওবা করা উচিত। এ মাসে তাওবার অনুকূল অবস্থা বিরাজ করে। শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়, জাহান্নাম থেকে মানুষকে মুক্তি দেওয়া হয়। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজান মাস পেয়েও তার পাপ ক্ষমা করাতে পারেনি, তার নাক ধুলায় ধূসরিত হোক।’ (জামেউল উসুল, হাদিস : ১৪১০)

৯. বেশি বেশি নেক আমল করা : রমজান মাসে অধিক হারে নেক আমল করতে চেষ্টা করা প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর জন্য একান্ত আবশ্যক, বিশেষ করে রমজানের শেষ দশকে। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘যখন রমজানের শেষ দশক এসে যেত, রাসুলুল্লাহ (সা.) তখন রাত জাগরণ করতেন, পরিবারবর্গকে নিদ্রা থেকে জাগিয়ে দিতেন, লুঙ্গি শক্ত ও ভালো করে বেঁধে (প্রস্তুতি গ্রহণ) নিতেন।’ (মুসলিম, হাদিস : ১১৭৪)

১০. বেশি বেশি জিকির করা : আল্লাহ তাআলার জিকির এমন এক মজবুত রজ্জু, যা সৃষ্টিকে স্রষ্টার সঙ্গে সম্পৃক্ত করে। তাঁর সান্নিধ্য লাভের পথ সুগম করে। মানুষকে উত্তম আদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত করে। সরল ও সঠিক পথের ওপর অবিচল রাখে। এ কারণে আল্লাহ তাআলা মুসলিম ব্যক্তিকে দিবা-রাত্রি গোপনে-প্রকাশ্যে জিকির করার আদেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘মুমিনরা! তোমরা আল্লাহকে বেশি পরিমাণে স্মরণ করো এবং সকাল-বিকাল আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করো।’ (সুরা : আহজাব, আয়াত : ৪১-৪২)

১১. একে অন্যকে কোরআন শোনানো : রমজান মাসে একজন অপরজনকে কোরআন শোনানো একটি উত্তম আমল। এটিকে দাওর বলা হয়। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, জিবরাইল (আ.) রমজানে প্রতি রাতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন এবং রাসুল (সা.) তাঁকে কোরআন শোনাতেন। (বুখারি, হাদিস : ১৯০২)

১২. কল্যাণকর কাজ বেশি বেশি করা : এ মাসে একটি ভালো কাজ অন্য মাসের চেয়ে অনেক বেশি উত্তম। সে জন্য যথাসম্ভব বেশি বেশি ভালো কাজ করতে হবে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘এ মাসের প্রতি রাতে একজন ঘোষণাকারী এই বলে আহবান করতে থাকে যে হে কল্যাণের অনুসন্ধানকারী, তুমি আরো অগ্রসর হও! হে অসৎ কাজের পথিক, তোমরা অন্যায় পথে চলা বন্ধ করো। (তুমি কি জানো?) এ মাসের প্রতি রাতে আল্লাহ তাআলা কত লোককে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৬৮৪)

১৩. লাইলাতুল কদর তালাশ করা : রমজান মাসে এমন একটি রাত আছে, যা হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। আল-কোরআনের ঘোষণা, ‘কদরের রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।’ (সুরা : কদর, আয়াত : ৪)

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াব পাওয়ার আশায় ইবাদত করবে, তাকে আগের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।’ (বুখারি, হাদিস : ৩৫)

১৪. তাকওয়া অর্জন করা : তাকওয়া এমন একটি গুণ, যা বান্দাকে আল্লাহর ভয়ে সব পাপ কাজ থেকে বিরত রাখে এবং তাঁর আদেশ মানতে বাধ্য করে। আর রমজান মাস তাকওয়া নামক গুণটি অর্জন করার এক বিশেষ মৌসুম। কোরআনে এসেছে, ‘হে ঈমানদাররা! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে করে তোমরা এর মাধ্যমে তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ১৮৩)

১৫. বিবাদ ও বেহায়াপনা থেকে বিরত থাকা : মাহে রমজানে মুমিনকে সব ঝগড়া-বিবাদ, মারামারি, অশ্লীল কথা ও বেহায়াপনা থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে, বিশেষ করে অশ্লীল গানবাজনা এবং রেডিও, টিভি ও মোবাইলের অশ্লীলতা থেকে দূরে থাকতে হবে। তবেই সিয়ামের সওয়াব ও উচ্চ মর্যাদা লাভ করা যাবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যখন তোমাদের কেউ সিয়াম পালন করবে, তখন সে কোনো মন্দ কথা বলবে না এবং বাজে বকবে না। যদি কেউ তাকে গালি দেয় বা লড়াই করতে আসে তখন সে যেন বলে, আমি ‘সায়েম—রোজাদার’।’
(বুখারি, হাদিস : ১৯০৪)

১৬. দোয়া করা : রোজাদারের দোয়া কবুল হয়। তাই প্রত্যেক সায়েমের উচিত আল্লাহর কাছে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ কামনা করে বেশি বেশি দোয়া করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তিন ব্যক্তির দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। (১) রোজাদার—যতক্ষণ না সে ইফতার করে, (২) ন্যায়নিষ্ঠ নেতা এবং (৩) মজলুমের দোয়া।’ (সহিহ ইবনু হিব্বান, হাদিস : ৩৪২৮) । মহান আল্লাহ আমাদের আমল করার তাওফিক দান করুন।আমিন।

রমজানের গুরুত্বপূর্ণ আমলগুলোর মধ্যে ফরজ রোজা রাখা, তারাবিহ সালাত আদায়, প্রচুর কুরআন তিলাওয়াত করা, শেষ দশকে ইতিকাফ করা এবং লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করা প্রধান

Text
myreligionislam
myreligionislam

রমজানের গুরুত্বপূর্ণ আমলগুলোর মধ্যে ফরজ রোজা রাখা, তারাবিহ সালাত আদায়, প্রচুর কুরআন তিলাওয়াত করা, শেষ দশকে ইতিকাফ করা এবং লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করা প্রধান

রমজানের গুরুত্বপূর্ণ আমলগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো সঠিক নিয়তে রোজা রাখা, সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা, তারাবিহ পড়া, কুরআন তিলাওয়াত ও খতম করা, ইফতার করানো, শেষ দশকে লাইলাতুল কদর তালাশ করা, প্রচুর দান-সাদকা করা এবং বেশি বেশি দোয়া ও ইস্তিগফার করা। 

রমজানের প্রধান আমলসমূহ:

  • ফরজ রোজা রাখা: ঈমান ও আত্মসচেতনতার সাথে রমজানের রোজা পালন করা।
  • তারাবিহ নামাজ: প্রতিদিন রাতে তারাবিহর নামাজ আদায় করা ।
  • কুরআন তিলাওয়াত ও অধ্যয়ন: কুরআন নাজিলের মাস হওয়ায় বেশি বেশি কুরআন পড়া ও বোঝা।
  • ইফতার করানো: রোজাদারকে ইফতার করানো, এতে রোজাদারের সমপরিমাণ সওয়াব পাওয়া যায়।
  • শেষ দশকে ইতিকাফ: রমজানের শেষ দশ দিন মসজিদে অবস্থান করে ইবাদত করা।
  • লাইলাতুল কদর তালাশ করা: শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে ভাগ্যরজনী বা কদরের রাত খোঁজা ।
  • দান-সাদকা ও ফিতরা: বেশি বেশি দান করা এবং ঈদের আগেই ফিতরা আদায় করা।
  • সেহরি খাওয়া: শেষ রাতে সেহরি খাওয়া সুন্নত।
  • দোয়া ও ইস্তিগফার: রোজার সময় ও ইফতারের আগে বেশি বেশি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া ।
  • অসৎ কাজ বর্জন: মিথ্যা, গীবত ও ঝগড়া-বিবাদ থেকে নিজেকে বিরত রাখা। 

এই পবিত্র মাসে প্রতিটি নেক আমলের সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি করে দেওয়া হয় । 

রমজানের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আমল

রমজান মাসের প্রতিটি মুহূর্তকে যেন কাজে লাগানো যায়, ঈমানদারের মধ্যে সে প্রচেষ্টা থাকা উচিত। কেননা এ মাস আমলের মাস; ইবাদতের মাস। এটি ইবাদতের বসন্তকাল। এখানে রমজানের বিশেষ কিছু আমল উল্লেখ করা হলো—

১. রোজা রাখা : ইসলামের পাঁচটি রুকনের একটি হলো রোজা।

আর রমজান মাসে রোজা রাখা ফরজ। মহান আল্লাহ বলেন, ‘সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে এ মাসে উপস্থিত হবে, সে যেন তাতে রোজা পালন করে।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ১৮৫)

২. সাহরি খাওয়া : হাদিসে এসেছে, ‘সাহরি হলো বরকতময় খাবার। তাই কখনো সাহরি খাওয়া বাদ দিয়ো না।

এক ঢোক পানি পান করে হলেও সাহরি খেয়ে নাও। কেননা সাহরির খাবার গ্রহণকারীকে আল্লাহ তাআলা ও তাঁর ফেরেশতারা স্মরণ করে থাকেন।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ১১১০১)

৩. ইফতার করা : সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করা ফজিলতপূর্ণ আমল। এতে কোনো বিলম্ব না করা।

কেননা হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি রোজা পালন করবে, সে যেন খেজুর দিয়ে ইফতার করে, খেজুর না পেলে পানি দিয়ে ইফতার করবে। কেননা পানি হলো অধিক পবিত্র।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ২৩৫৭)

৪. তারাবি ও তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করা : রমজানে কিয়ামুল লাইল করার কথা আছে। কিয়ামুল লাইল শব্দের অর্থ রাতের নামাজ। তারাবির নামাজ যেমন কিয়ামুল লাইলের মধ্যে পড়ে, তেমনি শেষ রাতে তাহাজ্জুদও সালাতুল লাইলের অন্তর্ভুক্ত।

সালাতুত তারাবি পড়া এ মাসের অন্যতম আমল। তারাবি পড়ার সময় তার হক আদায় করতে হবে। হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সওয়াব হাসিলের আশায় রমজানে কিয়ামু রমাদান (সালাতুত তারাবি) আদায় করবে, তার অতীতের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।’ (বুখারি, হাদিস : ২০০৯)

সাহাবায়ে কেরাম জামাতের সঙ্গে তারাবি শেষ না করে বাড়ি ফিরতেন না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি তারাবি শেষ করা পর্যন্ত ইমামের সঙ্গে থাকল, সে সারা রাত ইবাদতের নেকি পেল।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৮০৬)

৫. দান-সদকার পরিমাণ বাড়ানো : প্রখ্যাত সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস বলেন, ‘মহানবী (সা.) ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দানশীল। আর রমজানে তাঁর বদান্যতা আরো বেড়ে যেত।’(মুসলিম, হাদিস : ৩২০৮)

৬. ইতিকাফ : ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘মহানবী (সা.) রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন।’ (মুসলিম, হাদিস : ১১৭১)

৭. রোজাদারদের ইফতার করানো : রোজাদারকে ইফতার করালে রোজাদারের মতো রোজার সওয়াব পাওয়া যায়। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো রোজা পালনকারীকে (রোজাদারকে) ইফতার করাবে, সে রোজা পালনকারীর অনুরূপ সওয়াব লাভ করবে। এতে রোজা পালনকারীর সওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র হ্রাস করা হবে না।’ (মুসনাদ আহমদ, হাদিস : ২২৩০২)

৮. তাওবা ও ইস্তিগফার করা : সর্বদা তাওবা করা ওয়াজিব, বিশেষ করে এ মাসে তাওবা করা উচিত। এ মাসে তাওবার অনুকূল অবস্থা বিরাজ করে। শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়, জাহান্নাম থেকে মানুষকে মুক্তি দেওয়া হয়। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজান মাস পেয়েও তার পাপ ক্ষমা করাতে পারেনি, তার নাক ধুলায় ধূসরিত হোক।’ (জামেউল উসুল, হাদিস : ১৪১০)

৯. বেশি বেশি নেক আমল করা : রমজান মাসে অধিক হারে নেক আমল করতে চেষ্টা করা প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর জন্য একান্ত আবশ্যক, বিশেষ করে রমজানের শেষ দশকে। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘যখন রমজানের শেষ দশক এসে যেত, রাসুলুল্লাহ (সা.) তখন রাত জাগরণ করতেন, পরিবারবর্গকে নিদ্রা থেকে জাগিয়ে দিতেন, লুঙ্গি শক্ত ও ভালো করে বেঁধে (প্রস্তুতি গ্রহণ) নিতেন।’ (মুসলিম, হাদিস : ১১৭৪)

১০. বেশি বেশি জিকির করা : আল্লাহ তাআলার জিকির এমন এক মজবুত রজ্জু, যা সৃষ্টিকে স্রষ্টার সঙ্গে সম্পৃক্ত করে। তাঁর সান্নিধ্য লাভের পথ সুগম করে। মানুষকে উত্তম আদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত করে। সরল ও সঠিক পথের ওপর অবিচল রাখে। এ কারণে আল্লাহ তাআলা মুসলিম ব্যক্তিকে দিবা-রাত্রি গোপনে-প্রকাশ্যে জিকির করার আদেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘মুমিনরা! তোমরা আল্লাহকে বেশি পরিমাণে স্মরণ করো এবং সকাল-বিকাল আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করো।’ (সুরা : আহজাব, আয়াত : ৪১-৪২)

১১. একে অন্যকে কোরআন শোনানো : রমজান মাসে একজন অপরজনকে কোরআন শোনানো একটি উত্তম আমল। এটিকে দাওর বলা হয়। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, জিবরাইল (আ.) রমজানে প্রতি রাতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন এবং রাসুল (সা.) তাঁকে কোরআন শোনাতেন। (বুখারি, হাদিস : ১৯০২)

১২. কল্যাণকর কাজ বেশি বেশি করা : এ মাসে একটি ভালো কাজ অন্য মাসের চেয়ে অনেক বেশি উত্তম। সে জন্য যথাসম্ভব বেশি বেশি ভালো কাজ করতে হবে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘এ মাসের প্রতি রাতে একজন ঘোষণাকারী এই বলে আহবান করতে থাকে যে হে কল্যাণের অনুসন্ধানকারী, তুমি আরো অগ্রসর হও! হে অসৎ কাজের পথিক, তোমরা অন্যায় পথে চলা বন্ধ করো। (তুমি কি জানো?) এ মাসের প্রতি রাতে আল্লাহ তাআলা কত লোককে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৬৮৪)

১৩. লাইলাতুল কদর তালাশ করা : রমজান মাসে এমন একটি রাত আছে, যা হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। আল-কোরআনের ঘোষণা, ‘কদরের রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।’ (সুরা : কদর, আয়াত : ৪)

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াব পাওয়ার আশায় ইবাদত করবে, তাকে আগের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।’ (বুখারি, হাদিস : ৩৫)

১৪. তাকওয়া অর্জন করা : তাকওয়া এমন একটি গুণ, যা বান্দাকে আল্লাহর ভয়ে সব পাপ কাজ থেকে বিরত রাখে এবং তাঁর আদেশ মানতে বাধ্য করে। আর রমজান মাস তাকওয়া নামক গুণটি অর্জন করার এক বিশেষ মৌসুম। কোরআনে এসেছে, ‘হে ঈমানদাররা! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে করে তোমরা এর মাধ্যমে তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ১৮৩)

১৫. বিবাদ ও বেহায়াপনা থেকে বিরত থাকা : মাহে রমজানে মুমিনকে সব ঝগড়া-বিবাদ, মারামারি, অশ্লীল কথা ও বেহায়াপনা থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে, বিশেষ করে অশ্লীল গানবাজনা এবং রেডিও, টিভি ও মোবাইলের অশ্লীলতা থেকে দূরে থাকতে হবে। তবেই সিয়ামের সওয়াব ও উচ্চ মর্যাদা লাভ করা যাবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যখন তোমাদের কেউ সিয়াম পালন করবে, তখন সে কোনো মন্দ কথা বলবে না এবং বাজে বকবে না। যদি কেউ তাকে গালি দেয় বা লড়াই করতে আসে তখন সে যেন বলে, আমি ‘সায়েম—রোজাদার’।’
(বুখারি, হাদিস : ১৯০৪)

১৬. দোয়া করা : রোজাদারের দোয়া কবুল হয়। তাই প্রত্যেক সায়েমের উচিত আল্লাহর কাছে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ কামনা করে বেশি বেশি দোয়া করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তিন ব্যক্তির দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। (১) রোজাদার—যতক্ষণ না সে ইফতার করে, (২) ন্যায়নিষ্ঠ নেতা এবং (৩) মজলুমের দোয়া।’ (সহিহ ইবনু হিব্বান, হাদিস : ৩৪২৮) । মহান আল্লাহ আমাদের আমল করার তাওফিক দান করুন।আমিন।

রমজানের গুরুত্বপূর্ণ আমলগুলোর মধ্যে ফরজ রোজা রাখা, তারাবিহ সালাত আদায়, প্রচুর কুরআন তিলাওয়াত করা, শেষ দশকে ইতিকাফ করা এবং লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করা প্রধান

Text
mylordisallah
mylordisallah

রমজানের গুরুত্বপূর্ণ আমলগুলোর মধ্যে ফরজ রোজা রাখা, তারাবিহ সালাত আদায়, প্রচুর কুরআন তিলাওয়াত করা, শেষ দশকে ইতিকাফ করা এবং লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করা প্রধান

রমজানের গুরুত্বপূর্ণ আমলগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো সঠিক নিয়তে রোজা রাখা, সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা, তারাবিহ পড়া, কুরআন তিলাওয়াত ও খতম করা, ইফতার করানো, শেষ দশকে লাইলাতুল কদর তালাশ করা, প্রচুর দান-সাদকা করা এবং বেশি বেশি দোয়া ও ইস্তিগফার করা। 

রমজানের প্রধান আমলসমূহ:

  • ফরজ রোজা রাখা: ঈমান ও আত্মসচেতনতার সাথে রমজানের রোজা পালন করা।
  • তারাবিহ নামাজ: প্রতিদিন রাতে তারাবিহর নামাজ আদায় করা ।
  • কুরআন তিলাওয়াত ও অধ্যয়ন: কুরআন নাজিলের মাস হওয়ায় বেশি বেশি কুরআন পড়া ও বোঝা।
  • ইফতার করানো: রোজাদারকে ইফতার করানো, এতে রোজাদারের সমপরিমাণ সওয়াব পাওয়া যায়।
  • শেষ দশকে ইতিকাফ: রমজানের শেষ দশ দিন মসজিদে অবস্থান করে ইবাদত করা।
  • লাইলাতুল কদর তালাশ করা: শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে ভাগ্যরজনী বা কদরের রাত খোঁজা ।
  • দান-সাদকা ও ফিতরা: বেশি বেশি দান করা এবং ঈদের আগেই ফিতরা আদায় করা।
  • সেহরি খাওয়া: শেষ রাতে সেহরি খাওয়া সুন্নত।
  • দোয়া ও ইস্তিগফার: রোজার সময় ও ইফতারের আগে বেশি বেশি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া ।
  • অসৎ কাজ বর্জন: মিথ্যা, গীবত ও ঝগড়া-বিবাদ থেকে নিজেকে বিরত রাখা। 

এই পবিত্র মাসে প্রতিটি নেক আমলের সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি করে দেওয়া হয় । 

রমজানের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আমল

রমজান মাসের প্রতিটি মুহূর্তকে যেন কাজে লাগানো যায়, ঈমানদারের মধ্যে সে প্রচেষ্টা থাকা উচিত। কেননা এ মাস আমলের মাস; ইবাদতের মাস। এটি ইবাদতের বসন্তকাল। এখানে রমজানের বিশেষ কিছু আমল উল্লেখ করা হলো—

১. রোজা রাখা : ইসলামের পাঁচটি রুকনের একটি হলো রোজা।

আর রমজান মাসে রোজা রাখা ফরজ। মহান আল্লাহ বলেন, ‘সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে এ মাসে উপস্থিত হবে, সে যেন তাতে রোজা পালন করে।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ১৮৫)

২. সাহরি খাওয়া : হাদিসে এসেছে, ‘সাহরি হলো বরকতময় খাবার। তাই কখনো সাহরি খাওয়া বাদ দিয়ো না।

এক ঢোক পানি পান করে হলেও সাহরি খেয়ে নাও। কেননা সাহরির খাবার গ্রহণকারীকে আল্লাহ তাআলা ও তাঁর ফেরেশতারা স্মরণ করে থাকেন।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ১১১০১)

৩. ইফতার করা : সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করা ফজিলতপূর্ণ আমল। এতে কোনো বিলম্ব না করা।

কেননা হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি রোজা পালন করবে, সে যেন খেজুর দিয়ে ইফতার করে, খেজুর না পেলে পানি দিয়ে ইফতার করবে। কেননা পানি হলো অধিক পবিত্র।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ২৩৫৭)

৪. তারাবি ও তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করা : রমজানে কিয়ামুল লাইল করার কথা আছে। কিয়ামুল লাইল শব্দের অর্থ রাতের নামাজ। তারাবির নামাজ যেমন কিয়ামুল লাইলের মধ্যে পড়ে, তেমনি শেষ রাতে তাহাজ্জুদও সালাতুল লাইলের অন্তর্ভুক্ত।

সালাতুত তারাবি পড়া এ মাসের অন্যতম আমল। তারাবি পড়ার সময় তার হক আদায় করতে হবে। হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সওয়াব হাসিলের আশায় রমজানে কিয়ামু রমাদান (সালাতুত তারাবি) আদায় করবে, তার অতীতের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।’ (বুখারি, হাদিস : ২০০৯)

সাহাবায়ে কেরাম জামাতের সঙ্গে তারাবি শেষ না করে বাড়ি ফিরতেন না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি তারাবি শেষ করা পর্যন্ত ইমামের সঙ্গে থাকল, সে সারা রাত ইবাদতের নেকি পেল।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৮০৬)

৫. দান-সদকার পরিমাণ বাড়ানো : প্রখ্যাত সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস বলেন, ‘মহানবী (সা.) ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দানশীল। আর রমজানে তাঁর বদান্যতা আরো বেড়ে যেত।’(মুসলিম, হাদিস : ৩২০৮)

৬. ইতিকাফ : ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘মহানবী (সা.) রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন।’ (মুসলিম, হাদিস : ১১৭১)

৭. রোজাদারদের ইফতার করানো : রোজাদারকে ইফতার করালে রোজাদারের মতো রোজার সওয়াব পাওয়া যায়। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো রোজা পালনকারীকে (রোজাদারকে) ইফতার করাবে, সে রোজা পালনকারীর অনুরূপ সওয়াব লাভ করবে। এতে রোজা পালনকারীর সওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র হ্রাস করা হবে না।’ (মুসনাদ আহমদ, হাদিস : ২২৩০২)

৮. তাওবা ও ইস্তিগফার করা : সর্বদা তাওবা করা ওয়াজিব, বিশেষ করে এ মাসে তাওবা করা উচিত। এ মাসে তাওবার অনুকূল অবস্থা বিরাজ করে। শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়, জাহান্নাম থেকে মানুষকে মুক্তি দেওয়া হয়। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজান মাস পেয়েও তার পাপ ক্ষমা করাতে পারেনি, তার নাক ধুলায় ধূসরিত হোক।’ (জামেউল উসুল, হাদিস : ১৪১০)

৯. বেশি বেশি নেক আমল করা : রমজান মাসে অধিক হারে নেক আমল করতে চেষ্টা করা প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর জন্য একান্ত আবশ্যক, বিশেষ করে রমজানের শেষ দশকে। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘যখন রমজানের শেষ দশক এসে যেত, রাসুলুল্লাহ (সা.) তখন রাত জাগরণ করতেন, পরিবারবর্গকে নিদ্রা থেকে জাগিয়ে দিতেন, লুঙ্গি শক্ত ও ভালো করে বেঁধে (প্রস্তুতি গ্রহণ) নিতেন।’ (মুসলিম, হাদিস : ১১৭৪)

১০. বেশি বেশি জিকির করা : আল্লাহ তাআলার জিকির এমন এক মজবুত রজ্জু, যা সৃষ্টিকে স্রষ্টার সঙ্গে সম্পৃক্ত করে। তাঁর সান্নিধ্য লাভের পথ সুগম করে। মানুষকে উত্তম আদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত করে। সরল ও সঠিক পথের ওপর অবিচল রাখে। এ কারণে আল্লাহ তাআলা মুসলিম ব্যক্তিকে দিবা-রাত্রি গোপনে-প্রকাশ্যে জিকির করার আদেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘মুমিনরা! তোমরা আল্লাহকে বেশি পরিমাণে স্মরণ করো এবং সকাল-বিকাল আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করো।’ (সুরা : আহজাব, আয়াত : ৪১-৪২)

১১. একে অন্যকে কোরআন শোনানো : রমজান মাসে একজন অপরজনকে কোরআন শোনানো একটি উত্তম আমল। এটিকে দাওর বলা হয়। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, জিবরাইল (আ.) রমজানে প্রতি রাতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন এবং রাসুল (সা.) তাঁকে কোরআন শোনাতেন। (বুখারি, হাদিস : ১৯০২)

১২. কল্যাণকর কাজ বেশি বেশি করা : এ মাসে একটি ভালো কাজ অন্য মাসের চেয়ে অনেক বেশি উত্তম। সে জন্য যথাসম্ভব বেশি বেশি ভালো কাজ করতে হবে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘এ মাসের প্রতি রাতে একজন ঘোষণাকারী এই বলে আহবান করতে থাকে যে হে কল্যাণের অনুসন্ধানকারী, তুমি আরো অগ্রসর হও! হে অসৎ কাজের পথিক, তোমরা অন্যায় পথে চলা বন্ধ করো। (তুমি কি জানো?) এ মাসের প্রতি রাতে আল্লাহ তাআলা কত লোককে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৬৮৪)

১৩. লাইলাতুল কদর তালাশ করা : রমজান মাসে এমন একটি রাত আছে, যা হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। আল-কোরআনের ঘোষণা, ‘কদরের রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।’ (সুরা : কদর, আয়াত : ৪)

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াব পাওয়ার আশায় ইবাদত করবে, তাকে আগের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।’ (বুখারি, হাদিস : ৩৫)

১৪. তাকওয়া অর্জন করা : তাকওয়া এমন একটি গুণ, যা বান্দাকে আল্লাহর ভয়ে সব পাপ কাজ থেকে বিরত রাখে এবং তাঁর আদেশ মানতে বাধ্য করে। আর রমজান মাস তাকওয়া নামক গুণটি অর্জন করার এক বিশেষ মৌসুম। কোরআনে এসেছে, ‘হে ঈমানদাররা! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে করে তোমরা এর মাধ্যমে তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ১৮৩)

১৫. বিবাদ ও বেহায়াপনা থেকে বিরত থাকা : মাহে রমজানে মুমিনকে সব ঝগড়া-বিবাদ, মারামারি, অশ্লীল কথা ও বেহায়াপনা থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে, বিশেষ করে অশ্লীল গানবাজনা এবং রেডিও, টিভি ও মোবাইলের অশ্লীলতা থেকে দূরে থাকতে হবে। তবেই সিয়ামের সওয়াব ও উচ্চ মর্যাদা লাভ করা যাবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যখন তোমাদের কেউ সিয়াম পালন করবে, তখন সে কোনো মন্দ কথা বলবে না এবং বাজে বকবে না। যদি কেউ তাকে গালি দেয় বা লড়াই করতে আসে তখন সে যেন বলে, আমি ‘সায়েম—রোজাদার’।’
(বুখারি, হাদিস : ১৯০৪)

১৬. দোয়া করা : রোজাদারের দোয়া কবুল হয়। তাই প্রত্যেক সায়েমের উচিত আল্লাহর কাছে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ কামনা করে বেশি বেশি দোয়া করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তিন ব্যক্তির দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। (১) রোজাদার—যতক্ষণ না সে ইফতার করে, (২) ন্যায়নিষ্ঠ নেতা এবং (৩) মজলুমের দোয়া।’ (সহিহ ইবনু হিব্বান, হাদিস : ৩৪২৮) । মহান আল্লাহ আমাদের আমল করার তাওফিক দান করুন।আমিন।

রমজানের গুরুত্বপূর্ণ আমলগুলোর মধ্যে ফরজ রোজা রাখা, তারাবিহ সালাত আদায়, প্রচুর কুরআন তিলাওয়াত করা, শেষ দশকে ইতিকাফ করা এবং লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করা প্রধান

Text
allahisourrabb
allahisourrabb

রমজানের গুরুত্বপূর্ণ আমলগুলোর মধ্যে ফরজ রোজা রাখা, তারাবিহ সালাত আদায়, প্রচুর কুরআন তিলাওয়াত করা, শেষ দশকে ইতিকাফ করা এবং লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করা প্রধান

রমজানের গুরুত্বপূর্ণ আমলগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো সঠিক নিয়তে রোজা রাখা, সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা, তারাবিহ পড়া, কুরআন তিলাওয়াত ও খতম করা, ইফতার করানো, শেষ দশকে লাইলাতুল কদর তালাশ করা, প্রচুর দান-সাদকা করা এবং বেশি বেশি দোয়া ও ইস্তিগফার করা। 

রমজানের প্রধান আমলসমূহ:

  • ফরজ রোজা রাখা: ঈমান ও আত্মসচেতনতার সাথে রমজানের রোজা পালন করা।
  • তারাবিহ নামাজ: প্রতিদিন রাতে তারাবিহর নামাজ আদায় করা ।
  • কুরআন তিলাওয়াত ও অধ্যয়ন: কুরআন নাজিলের মাস হওয়ায় বেশি বেশি কুরআন পড়া ও বোঝা।
  • ইফতার করানো: রোজাদারকে ইফতার করানো, এতে রোজাদারের সমপরিমাণ সওয়াব পাওয়া যায়।
  • শেষ দশকে ইতিকাফ: রমজানের শেষ দশ দিন মসজিদে অবস্থান করে ইবাদত করা।
  • লাইলাতুল কদর তালাশ করা: শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে ভাগ্যরজনী বা কদরের রাত খোঁজা ।
  • দান-সাদকা ও ফিতরা: বেশি বেশি দান করা এবং ঈদের আগেই ফিতরা আদায় করা।
  • সেহরি খাওয়া: শেষ রাতে সেহরি খাওয়া সুন্নত।
  • দোয়া ও ইস্তিগফার: রোজার সময় ও ইফতারের আগে বেশি বেশি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া ।
  • অসৎ কাজ বর্জন: মিথ্যা, গীবত ও ঝগড়া-বিবাদ থেকে নিজেকে বিরত রাখা। 

এই পবিত্র মাসে প্রতিটি নেক আমলের সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি করে দেওয়া হয় । 

রমজানের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আমল

রমজান মাসের প্রতিটি মুহূর্তকে যেন কাজে লাগানো যায়, ঈমানদারের মধ্যে সে প্রচেষ্টা থাকা উচিত। কেননা এ মাস আমলের মাস; ইবাদতের মাস। এটি ইবাদতের বসন্তকাল। এখানে রমজানের বিশেষ কিছু আমল উল্লেখ করা হলো—

১. রোজা রাখা : ইসলামের পাঁচটি রুকনের একটি হলো রোজা।

আর রমজান মাসে রোজা রাখা ফরজ। মহান আল্লাহ বলেন, ‘সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে এ মাসে উপস্থিত হবে, সে যেন তাতে রোজা পালন করে।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ১৮৫)

২. সাহরি খাওয়া : হাদিসে এসেছে, ‘সাহরি হলো বরকতময় খাবার। তাই কখনো সাহরি খাওয়া বাদ দিয়ো না।

এক ঢোক পানি পান করে হলেও সাহরি খেয়ে নাও। কেননা সাহরির খাবার গ্রহণকারীকে আল্লাহ তাআলা ও তাঁর ফেরেশতারা স্মরণ করে থাকেন।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ১১১০১)

৩. ইফতার করা : সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করা ফজিলতপূর্ণ আমল। এতে কোনো বিলম্ব না করা।

কেননা হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি রোজা পালন করবে, সে যেন খেজুর দিয়ে ইফতার করে, খেজুর না পেলে পানি দিয়ে ইফতার করবে। কেননা পানি হলো অধিক পবিত্র।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ২৩৫৭)

৪. তারাবি ও তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করা : রমজানে কিয়ামুল লাইল করার কথা আছে। কিয়ামুল লাইল শব্দের অর্থ রাতের নামাজ। তারাবির নামাজ যেমন কিয়ামুল লাইলের মধ্যে পড়ে, তেমনি শেষ রাতে তাহাজ্জুদও সালাতুল লাইলের অন্তর্ভুক্ত।

সালাতুত তারাবি পড়া এ মাসের অন্যতম আমল। তারাবি পড়ার সময় তার হক আদায় করতে হবে। হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সওয়াব হাসিলের আশায় রমজানে কিয়ামু রমাদান (সালাতুত তারাবি) আদায় করবে, তার অতীতের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।’ (বুখারি, হাদিস : ২০০৯)

সাহাবায়ে কেরাম জামাতের সঙ্গে তারাবি শেষ না করে বাড়ি ফিরতেন না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি তারাবি শেষ করা পর্যন্ত ইমামের সঙ্গে থাকল, সে সারা রাত ইবাদতের নেকি পেল।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৮০৬)

৫. দান-সদকার পরিমাণ বাড়ানো : প্রখ্যাত সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস বলেন, ‘মহানবী (সা.) ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দানশীল। আর রমজানে তাঁর বদান্যতা আরো বেড়ে যেত।’(মুসলিম, হাদিস : ৩২০৮)

৬. ইতিকাফ : ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘মহানবী (সা.) রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন।’ (মুসলিম, হাদিস : ১১৭১)

৭. রোজাদারদের ইফতার করানো : রোজাদারকে ইফতার করালে রোজাদারের মতো রোজার সওয়াব পাওয়া যায়। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো রোজা পালনকারীকে (রোজাদারকে) ইফতার করাবে, সে রোজা পালনকারীর অনুরূপ সওয়াব লাভ করবে। এতে রোজা পালনকারীর সওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র হ্রাস করা হবে না।’ (মুসনাদ আহমদ, হাদিস : ২২৩০২)

৮. তাওবা ও ইস্তিগফার করা : সর্বদা তাওবা করা ওয়াজিব, বিশেষ করে এ মাসে তাওবা করা উচিত। এ মাসে তাওবার অনুকূল অবস্থা বিরাজ করে। শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়, জাহান্নাম থেকে মানুষকে মুক্তি দেওয়া হয়। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজান মাস পেয়েও তার পাপ ক্ষমা করাতে পারেনি, তার নাক ধুলায় ধূসরিত হোক।’ (জামেউল উসুল, হাদিস : ১৪১০)

৯. বেশি বেশি নেক আমল করা : রমজান মাসে অধিক হারে নেক আমল করতে চেষ্টা করা প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর জন্য একান্ত আবশ্যক, বিশেষ করে রমজানের শেষ দশকে। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘যখন রমজানের শেষ দশক এসে যেত, রাসুলুল্লাহ (সা.) তখন রাত জাগরণ করতেন, পরিবারবর্গকে নিদ্রা থেকে জাগিয়ে দিতেন, লুঙ্গি শক্ত ও ভালো করে বেঁধে (প্রস্তুতি গ্রহণ) নিতেন।’ (মুসলিম, হাদিস : ১১৭৪)

১০. বেশি বেশি জিকির করা : আল্লাহ তাআলার জিকির এমন এক মজবুত রজ্জু, যা সৃষ্টিকে স্রষ্টার সঙ্গে সম্পৃক্ত করে। তাঁর সান্নিধ্য লাভের পথ সুগম করে। মানুষকে উত্তম আদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত করে। সরল ও সঠিক পথের ওপর অবিচল রাখে। এ কারণে আল্লাহ তাআলা মুসলিম ব্যক্তিকে দিবা-রাত্রি গোপনে-প্রকাশ্যে জিকির করার আদেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘মুমিনরা! তোমরা আল্লাহকে বেশি পরিমাণে স্মরণ করো এবং সকাল-বিকাল আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করো।’ (সুরা : আহজাব, আয়াত : ৪১-৪২)

১১. একে অন্যকে কোরআন শোনানো : রমজান মাসে একজন অপরজনকে কোরআন শোনানো একটি উত্তম আমল। এটিকে দাওর বলা হয়। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, জিবরাইল (আ.) রমজানে প্রতি রাতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন এবং রাসুল (সা.) তাঁকে কোরআন শোনাতেন। (বুখারি, হাদিস : ১৯০২)

১২. কল্যাণকর কাজ বেশি বেশি করা : এ মাসে একটি ভালো কাজ অন্য মাসের চেয়ে অনেক বেশি উত্তম। সে জন্য যথাসম্ভব বেশি বেশি ভালো কাজ করতে হবে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘এ মাসের প্রতি রাতে একজন ঘোষণাকারী এই বলে আহবান করতে থাকে যে হে কল্যাণের অনুসন্ধানকারী, তুমি আরো অগ্রসর হও! হে অসৎ কাজের পথিক, তোমরা অন্যায় পথে চলা বন্ধ করো। (তুমি কি জানো?) এ মাসের প্রতি রাতে আল্লাহ তাআলা কত লোককে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৬৮৪)

১৩. লাইলাতুল কদর তালাশ করা : রমজান মাসে এমন একটি রাত আছে, যা হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। আল-কোরআনের ঘোষণা, ‘কদরের রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।’ (সুরা : কদর, আয়াত : ৪)

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াব পাওয়ার আশায় ইবাদত করবে, তাকে আগের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।’ (বুখারি, হাদিস : ৩৫)

১৪. তাকওয়া অর্জন করা : তাকওয়া এমন একটি গুণ, যা বান্দাকে আল্লাহর ভয়ে সব পাপ কাজ থেকে বিরত রাখে এবং তাঁর আদেশ মানতে বাধ্য করে। আর রমজান মাস তাকওয়া নামক গুণটি অর্জন করার এক বিশেষ মৌসুম। কোরআনে এসেছে, ‘হে ঈমানদাররা! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে করে তোমরা এর মাধ্যমে তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ১৮৩)

১৫. বিবাদ ও বেহায়াপনা থেকে বিরত থাকা : মাহে রমজানে মুমিনকে সব ঝগড়া-বিবাদ, মারামারি, অশ্লীল কথা ও বেহায়াপনা থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে, বিশেষ করে অশ্লীল গানবাজনা এবং রেডিও, টিভি ও মোবাইলের অশ্লীলতা থেকে দূরে থাকতে হবে। তবেই সিয়ামের সওয়াব ও উচ্চ মর্যাদা লাভ করা যাবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যখন তোমাদের কেউ সিয়াম পালন করবে, তখন সে কোনো মন্দ কথা বলবে না এবং বাজে বকবে না। যদি কেউ তাকে গালি দেয় বা লড়াই করতে আসে তখন সে যেন বলে, আমি ‘সায়েম—রোজাদার’।’
(বুখারি, হাদিস : ১৯০৪)

১৬. দোয়া করা : রোজাদারের দোয়া কবুল হয়। তাই প্রত্যেক সায়েমের উচিত আল্লাহর কাছে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ কামনা করে বেশি বেশি দোয়া করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তিন ব্যক্তির দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। (১) রোজাদার—যতক্ষণ না সে ইফতার করে, (২) ন্যায়নিষ্ঠ নেতা এবং (৩) মজলুমের দোয়া।’ (সহিহ ইবনু হিব্বান, হাদিস : ৩৪২৮) । মহান আল্লাহ আমাদের আমল করার তাওফিক দান করুন।আমিন।

রমজানের গুরুত্বপূর্ণ আমলগুলোর মধ্যে ফরজ রোজা রাখা, তারাবিহ সালাত আদায়, প্রচুর কুরআন তিলাওয়াত করা, শেষ দশকে ইতিকাফ করা এবং লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করা প্রধান

Text
honestlyidontthinkso
honestlyidontthinkso

Fuck me and my inability to half-ass things 💔💔